তলা থেকে শীর্ষে! ৬ রাউন্ডের খরা কাটিয়ে ইতিহাস গড়লেন প্রজ্ঞানন্দ, নরওয়েতে বাজিমাত ভারতীয় তারকার

দাবাড়ুদের বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের জন্ম দিলেন ভারতের ২০ বছরের গ্র্যান্ডমাস্টার আর প্রজ্ঞানন্দ। নরওয়ে দাবার মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে জয়ী হয়ে তিনি প্রমাণ করে দিলেন, হার না মানা মানসিকতা থাকলে যেকোনো অসম্ভবকে জয় করা সম্ভব। ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে যেখানে তিনি পয়েন্ট তালিকার তলানিতে ছিলেন, সেখান থেকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে খেতাব জয় এককথায় রূপকথার মতো।

অসম্ভব প্রত্যাবর্তন:
টুর্নামেন্টের প্রথম ছয় রাউন্ড প্রজ্ঞানন্দের জন্য দুঃস্বপ্নের মতো ছিল। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডি গুকেশ এবং ওয়েসলি সো-র কাছে টানা দুটি ক্লাসিক্যাল ম্যাচে পরাজয়ের পর তাঁর টুর্নামেন্ট জেতার সম্ভাবনা নেমে এসেছিল মাত্র ০.৭ শতাংশে। গেম থিয়োরি বিশেষজ্ঞদের হিসেবেও তিনি তখন টুর্নামেন্ট জয়ের দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। কিন্তু এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর অদম্য লড়াই। আলিরেজা ফিরুজাকে হারানোর পর তিনি ম্যাগনাস কার্লসেনকে দ্বিতীয়বারের মতো পরাস্ত করেন, যা তাঁর আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

কার্লসেনের শহরে দাপট:
নরওয়ে দাবার ইতিহাসে এমন সাফল্য বিরল। ম্যাগনাস কার্লসেনের উপস্থিতিতে কোনো ক্লাসিক্যাল টুর্নামেন্ট জয়ী ভারতীয়দের তালিকায় দ্বিতীয় হলেন প্রজ্ঞানন্দ। ২০০৭ সালে বিশ্বনাথন আনন্দ প্রথম এই কীর্তি গড়েন। শুধু চ্যাম্পিয়ন হওয়াই নয়, টুর্নামেন্টের অন্যতম বিশেষত্ব হলো টানা চারটি ক্লাসিক্যাল ম্যাচ জয়। কার্লসেন, গুকেশ, ফিরুজা এবং ভিনসেন্ট কাইমারের মতো বিশ্বের সেরা দাবাড়ুদের টপকে তিনি যেভাবে শিরোপা ছিনিয়ে নিলেন, তা বিশ্ব দাবায় এক নতুন যুগের সূচনা করল।

সাফল্যের নেপথ্যে:
নিজের জীবনের সবচেয়ে বিশেষ জয় হিসেবে এই সাফল্যকে চিহ্নিত করে প্রজ্ঞানন্দ জানান, শেষ চার রাউন্ডে তিনি নিজের খেলার ধরনে পরিবর্তন এনেছিলেন। সময়ের চাপ এড়াতে দ্রুত চাল দেওয়ার পাশাপাশি কম্পিউটারের সামনে কম সময় কাটিয়েছেন। ম্যাচের বাইরে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুরো মনোযোগ বোর্ডে দেওয়াই তাঁকে এই ঐতিহাসিক সাফল্যে পৌঁছে দিয়েছে।

নতুন যুগের সংকেত:
২০২৫ সালে টাটা স্টিল বা বুখারেস্ট গ্র্যান্ড চেস ট্যুর জয়ের চেয়েও এই জয় অনেক বেশি গুরুত্ববহ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। কারণ, খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে খোদ কার্লসেনের দেশের মাটিতে তাঁরই উপস্থিতিতে বিশ্বসেরাদের হারিয়ে এই জয় ভারতীয় দাবার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হওয়ার বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে।