চুরি করবেন না, বরং কিউআর কোড লাগান! সেচের মোটর বাঁচাতে কৃষকদের অভিনব ও আবেগঘন আবেদন

সেচের মোটর চুরি রুখতে চূড়ান্ত হতাশায় পড়ে এবার এক অভিনব এবং আবেগঘন পন্থা অবলম্বন করলেন পাঞ্জাবের ফরিদকোট জেলার কৃষকরা। পুলিশ ও প্রশাসনের দ্বারে ঘুরেও সুরাহা না মেলায় চোরদের কাছেই সরাসরি হাতজোড় করে আবেদন জানালেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। ভাইরাল হওয়া এক পোস্টারে তাঁরা লিখেছেন, “চুরি করবেন না, বরং কোনো জনবহুল স্থানে একটি কিউআর কোড (স্ক্যানার) লাগান। আমরা সকলে মিলে চাঁদা তুলে আপনাদের টাকা দিয়ে দেব, দয়া করে আমাদের মোটরগুলো চুরি করবেন না।”

আর্থিক দুর্দশার চরম পর্যায়:
ফরিদকোট জেলায় গত কয়েক দিনে প্রায় ২৫টি এবং তার আগে ১৫টি মোটর চুরির ঘটনা ঘটেছে। কৃষকদের অভিযোগ, একটি সেচের মোটরের বাজারমূল্য ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। কৃষকরা দীর্ঘদিনের জমানো টাকা বা ঋণ নিয়ে এই মোটর কেনেন। অথচ চোরেরা সেগুলি মাত্র ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকায় ভাঙারি দোকানে বিক্রি করে দেয়। এই সামান্য টাকার জন্য কৃষকদের কয়েক হাজার টাকার ক্ষতি হচ্ছে, যা তাঁদের চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে ফেলেছে।

কেন এই অভিনব আবেদন?
ভাইরাল হওয়া সেই পোস্টারে কৃষকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কৃষিকাজ এখন এমনিতেই লোকসানের মুখ দেখছে। তার ওপর এই চুরি তাঁদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। তাঁরা চোরদের উদ্দেশে লিখেছেন, “আপনাদের যদি টাকার একান্তই প্রয়োজন হয়, তবে আমরা নিজেদের মধ্যে টাকা তুলে আপনাদের দিচ্ছি। কিন্তু আমাদের মোটরগুলো চুরি করবেন না।”

প্রশাসনের কাছে কড়া দাবি:
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় কৃষকরা প্রশাসন ও সরকারের কাছে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রধান দাবিগুলো হলো:

এলাকায় গজিয়ে ওঠা ভাঙারি দোকানগুলোর ওপর কড়া নজরদারি রাখা।

যদি কেউ সেচের মোটর বা এর যন্ত্রাংশ বিক্রি করতে আসে, তবে অবিলম্বে তার তথ্য পুলিশকে জানানো।

চোরদের গ্যাংকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা।

কৃষকদের এই আবেগঘন পোস্টার এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হচ্ছে। অনেকে এই ঘটনাকে কৃষকদের অসহায়ত্বের চরম প্রকাশ বলে মনে করছেন। স্থানীয় গ্রামবাসীরা আশা করছেন, সরকারের কানে এই আবেদন পৌঁছালে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের কষ্টের এই চুরির উপদ্রব বন্ধ হবে।