ফুটবলের মহাযজ্ঞ ৯৬ বছরে! জানেন কীভাবে শুরু হয়েছিল প্রথম বিশ্বকাপ?

ফুটবল মানেই আবেগ, আর সেই আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বিশ্বকাপের হাতছানি। মেসি, নেইমার, রোনাল্ডোদের শেষবার বিশ্বমঞ্চে দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে আপামর ফুটবলপ্রেমী। কিন্তু ৯৬ বছর আগে যখন এই মহাযজ্ঞের বীজ বপন করা হয়েছিল, তখন পরিস্থিতি আজকের মতো ছিল না। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ‘জুলে রিমে কাপ’ থেকে আজকের এই বিশ্বমঞ্চ হয়ে ওঠার নেপথ্যের রোমাঞ্চকর কাহিনী।
কেন শুরু হয়েছিল বিশ্বকাপ?
১৯৩০ সালের আগে ফুটবল ছিল গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের অংশ। কিন্তু অলিম্পিক কমিটির কঠোর নিয়ম ছিল যে, কেবল ‘অপেশাদার’ ফুটবলাররাই অংশ নিতে পারবেন। অথচ ১৯২০-র দশক থেকে ফুটবল পেশাদারিত্বের রূপ নিতে শুরু করে। সেরা তারকারা ক্লাবের বেতনভুক্ত হওয়ায় অলিম্পিকে খেলার সুযোগ হারান। একইসঙ্গে, ফিফা চেয়েছিল অলিম্পিক কমিটির ছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে এবং ফুটবলের আর্থিক লাভের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে। এই লক্ষ্যেই ফিফার তৎকালীন সভাপতি জুলে রিমে ও অঁরি দেলোনে এক নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের স্বপ্ন দেখেন।
উরুগুয়ের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত:
১৯২৮ সালের ফিফা কংগ্রেসে ২৫-৫ ভোটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তাব পাশ হওয়ার পর আয়োজক দেশ হিসেবে বেছে নেওয়া হয় উরুগুয়েকে। কারণ, সে সময় তারা স্বাধীনতার শতবর্ষ পালন করছিল এবং সব দলের যাতায়াত ও থাকার খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছিল। এছাড়া উরুগুয়ে ছিল তখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তি। তবে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে অনেক দেশ উরুগুয়ে যেতে অনিচ্ছুক ছিল, কিন্তু জুলে রিমের ঐকান্তিক চেষ্টায় শেষমেশ ১৩টি দল নিয়ে শুরু হয় প্রথম বিশ্বকাপ।
ফাইনালের সেই নাটকীয় বল-যুদ্ধ:
প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনাল ছিল খোদ একটি সিনেমার গল্পের মতো। মুখোমুখি উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। দুই দলই নিজেদের পছন্দ করা বল দিয়ে খেলার দাবিতে অনড় ছিল। অবশেষে সমঝোতায় পৌঁছানো হয়— প্রথমার্ধে ব্যবহৃত হয় আর্জেন্টিনার বল, আর দ্বিতীয়ার্ধে উরুগুয়ের। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও, দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়ে উরুগুয়ে।
এক দীর্ঘ পথচলা:
১৯৩০ সালের সেই ১৩টি দলের প্রতিযোগিতা আজ এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে। মাঝে কেটে গেছে ৯৬টি বছর। অলিম্পিকের গণ্ডি পেরিয়ে ফুটবল এখন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় বিনোদন। জুলে রিমের সেই দূরদর্শী স্বপ্নই আজকের ফুটবল দুনিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ফুটবল প্রেমীদের কাছে এবারের বিশ্বকাপ তাই কেবল ম্যাচ দেখার আসর নয়, বরং ইতিহাসের সেই স্বর্ণালী দিনগুলোকে স্মরণ করার এক অনন্য সুযোগ।