“ভাইয়ের খুনে উত্তাল বাংলাদেশ!”-বিএনপি, জামাত ও ইউনূস সরকারকে দায়ী করলেন ওসমান হাদির ভাই

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর নেতা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নতুন মোড় নিল। হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় বছর পর, নিহতের ভাই শরিফ ওসমান হাদির ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তিনি সরাসরি ক্ষমতাসীন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করেছেন।
কী অভিযোগ শরিফের? মঙ্গলবার রাতে দুটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে শরিফ ওসমান হাদি বিস্ফোরক সব দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তাঁর ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। শরিফের দাবি, জামায়াতের বর্তমান আমির শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) সরাসরি এই খুনের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পাশাপাশি, তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপি’র একাধিক সাংসদের বিরুদ্ধেও সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত আইনের আওতায় আনুন।” একই সঙ্গে তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি, “হত্যাকারীদের বিচার না করলে তারা ভবিষ্যতে আপনাকেও হত্যার চেষ্টা করবে।”
হত্যাকাণ্ড ও তদন্তের প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, গত বছর ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণার সময় ঢাকা শহরে মুখোশধারী বন্দুকধারীরা ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদিকে সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় গত মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে রাহুল ওরফে ফয়সল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন নামে দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁরা সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
রাজনৈতিক সমীকরণ ওসমান হাদি একদিকে যেমন ভারতবিরোধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, অন্যদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামি লিগেরও কঠোর সমালোচক ছিলেন। তাঁর এই রহস্যময় মৃত্যুর নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ষড়যন্ত্রের যে ইঙ্গিত তাঁর ভাই দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড়সড় তোলপাড় শুরু করেছে। যদিও সরকারের তরফ থেকে এই বিস্ফোরক অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।