“সবে তো শুরু,আরও অনেক কিছুর জবাব দিতে হবে…”-মমতাকে তীব্র কটাক্ষ অমিতের

নির্বাচনের ফলাফলের মাস পেরোতেই রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে নাটকীয়ভাবে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি, অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে চরম অস্বস্তি। এরই মধ্যে তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়কের সই নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে।

দলে ভাঙন ও বিধায়কদের বিদ্রোহ: দলবিরোধী কাজের অভিযোগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে আগেই বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল। কিন্তু সেই ঋতব্রতর নেতৃত্বেই সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়করা স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে বিরোধী দল হিসেবে সমর্থনপত্র জমা দিয়েছেন। এই ঘটনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় রাশ আলগা হওয়ার ইঙ্গিত দেয় বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।

অমিত মালব্যর বিস্ফোরক মন্তব্য: এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি নেতা অমিত মালব্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পতনের এই সবে শুরু। মালব্যর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভেবেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করে তিনি নিজেই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। কিন্তু আজ বাংলার মানুষ এবং নিজের দলের বিধায়করাও তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।”

মালব্য আরও যোগ করেন, “পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দলীয় বিধায়কদের ওপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি শেষ। এখানেই শেষ নয়, অতীতে তাঁর আমলে হওয়া বিভিন্ন ঘটনার দায়ভার এবং হাতে লেগে থাকা রক্তের দাগের জবাবও তাঁকে দিতে হবে।”

মমতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও অনিশ্চয়তা: ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা তাঁকে ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বপ্ন দেখতেন। এমনকি সাম্প্রতিক নির্বাচনে হারার পরেও তিনি ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে দলীয় বিধায়কদের এই বিদ্রোহ এবং নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।

দলের অন্দরের এই বিদ্রোহ এবং বিরোধী শিবিরের আক্রমণ মোকাবিলা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।