ছেলেকে চিনতেই পারেননি প্রসেনজিৎ! কোন পরিস্থিতিতে এই ঘটনা? মুখ খুললেন অভিনেতা।

পর্দায় যাঁকে আমরা শতবার ‘সুপারস্টার’ হিসেবে দেখেছি, সেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবনের এক অজানা ও আবেগঘন অধ্যায় উঠে এল প্রকাশ্যে। ‘অভিমান’ ছবির মুক্তির প্রাক্কালে ইটিভি ভারতের প্রতিনিধি নবনীতা দত্তগুপ্তর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় বাঙালির প্রিয় ‘বুম্বাদা’ শেয়ার করলেন এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা, যা শুনে অবাক ভক্তরা।

কেন ছেলেকে চিনতে পারেননি প্রসেনজিৎ? আড্ডার ছলে প্রসেনজিৎ জানালেন, কাজের চাপে এবং দীর্ঘদিনের ব্যস্ততার মাঝে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল যে, তিনি মুহূর্তের জন্য নিজের ছেলেকে চিনতেই পারেননি! অভিনেতার কথায়, দীর্ঘসময় কাজের সূত্রে বাড়ির বাইরে থাকার ফলে সন্তানদের বেড়ে ওঠার অনেক ছোটখাটো মুহূর্ত তিনি হাতছাড়া করেছেন। সেই সময়ের ব্যবধানই তৈরি করেছিল এক অদ্ভুত দূরত্ব।

কী বলছেন প্রসেনজিৎ? নিজের সেই মানসিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেতা। তিনি জানান, একজন তারকা হিসেবে দর্শকদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার দৌড়ে অনেক সময় নিজের পরিবারের বিশেষ মুহূর্তগুলো মিস হয়ে যায়। সেই অপরাধবোধ থেকেই হয়তো এই ধরণের অভিজ্ঞতার কথা তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন। তবে এই ঘটনা তাঁকে নতুন করে শিখিয়েছে, কাজের বাইরেও যে জীবনের একটা বড় অংশ পরিবারকে দেওয়া কতটা জরুরি।

‘অভিমান’ ও ব্যক্তিজীবন: ‘অভিমান’ ছবির প্রেক্ষাপট এবং এই ঘটনার মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই। ছবির প্রচারের মাঝেই অভিনেতার এই ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তি যেন মানুষের হৃদয়ে বাড়তি জায়গা করে নিয়েছে। প্রসেনজিতের মতে, ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন সত্যগুলোই একজন মানুষকে অভিনেতা হিসেবে আরও পরিণত করে তোলে।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এই অকপট স্বীকারোক্তি একদিকে যেমন তাঁর স্টারডমের আড়ালের মানুষটিকে সামনে এনেছে, তেমনি অভিভাবকদের কাছেও এক বড় বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।