পটোয়ারি গ্রেপ্তার হতেই ঢোল-বাজনা গ্রামে! ঘুষখোরকে জব্দ করে নজির গড়ল এসিবি

রাজস্থানের পালিতে দুর্নীতির অভিযোগে পটোয়ারি গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ডেইলিহান্ট-এর পাঠকদের জন্য পেশাদার সংবাদ সম্পাদকের শৈলীতে নিচে পুনর্লিখন করা হলো:

ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে গ্রেপ্তার পটোয়ারি, উল্লাসে ফেটে পড়ল গ্রামবাসী!
রাজস্থানের পালিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় জয় পেল দুর্নীতি দমন ব্যুরো (এসিবি)। জমি সংক্রান্ত কাজের বিনিময়ে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে সোমবার লতাদা পটোয়ার ভবনের পটোয়ারি বিক্রম ধীরকে ৮,০০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করল এসিবি। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পটোয়ারি ভবনের বাইরে জড়ো হয়ে ঢোল-করতাল বাজিয়ে উল্লাস প্রকাশ করলেন গ্রামবাসীরা।

ঠিক কী ঘটেছিল?
অভিযোগকারী কমলেশ চৌধুরীর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি জমি কেনার পর তার সীমানা নির্ধারণ ও মিউটেশনের জন্য গত আট মাস ধরে পটোয়ারি বিক্রম ধীরের অফিসে ঘুরছিলেন। এই কাজের জন্য পটোয়ারি মোট ১৩,০০০ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। এর মধ্যে ৫,০০০ টাকা আগেই নেওয়া হয়েছিল। বাকি ৮,০০০ টাকার জন্য অভিযোগকারীকে ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এরপরই কমলেশ এসিবি পালির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ধর্মেন্দ্র দুকিয়ার কাছে অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এসিবি ফাঁদ পেতে সোমবার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ
পটোয়ারি গ্রেপ্তারের খবর গ্রামে পৌঁছাতেই গ্রামবাসীরা ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একে অপরকে খবরটি জানান। অভিযুক্তের অফিসের বাইরে ঢোল-বাজনা নিয়ে হাজির হয়ে গ্রামবাসীরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দেন। তাঁদের অভিযোগ:

ছোটখাটো সরকারি কাজের জন্য মাসের পর মাস হয়রানি করা হতো।

সীমানা নির্ধারণ, নাম পরিবর্তন বা ফসলের ক্ষতির খতিয়ান পেতে সাধারণ মানুষকে নাজেহাল হতে হতো।

অতীতে বিধায়ক পুষ্পেন্দ্র সিং রানাওয়াতও প্রকাশ্যে পটোয়ারির কাজের পদ্ধতির সমালোচনা করেছিলেন।

তদন্তের দাবি আরও জোরালো
অভিযুক্ত পটোয়ারির গ্রেপ্তার হওয়ার পর গ্রামবাসীরা এখন তাঁর সমগ্র আমলের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এসিবি জানিয়েছে, তারা ঘুষের টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে এবং অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে এখন বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে এসিবি।