‘আইন হাতে তুলে নেবেন না’, নবান্ন থেকে কঠোর বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ ও ক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। কোথাও সরকারি সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে, তো কোথাও ঘেরাও করা হচ্ছে তৃণমূল নেতাদের অফিস। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতে সোমবার নবান্ন থেকে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
জনরোষ ও প্রশাসনিক ভূমিকা:
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, মানুষ কেবল সরকার বা দলের পরিবর্তন চায়নি, চেয়েছিল গোটা ব্যবস্থার পরিবর্তন। তাঁর কথায়, “সব বিক্ষোভের পেছনে কোনো রাজনৈতিক দল নেই। দিনের পর দিন জমে থাকা ক্ষোভ থেকেই মানুষ রাস্তায় নামছে।” তবে একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ করেন, কোনোভাবেই যেন আইন হাতে তুলে নেওয়া না হয়। প্রশাসন ও পুলিশ ইতিমধ্যেই সক্রিয়ভাবে তদন্ত শুরু করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
পুলিশকে কাজ করতে দেওয়ার আর্জি:
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া সরকারি সামগ্রী নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিডিও (BDO) এবং ম্যাজিস্ট্রেটরা সব জায়গায় যাচ্ছেন। ভিডিওগ্রাফি হচ্ছে। আপনারা আইন নিজের হাতে নেবেন না, অভিযোগ জানান। সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।” তিনি পুলিশকে তাদের কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার বার্তাও দিয়েছেন।
‘সস্তার প্রচার’ নিয়ে সতর্কতা:
বিজেপি কর্মীদের সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো অসংলগ্ন ঘটনা যেন বিরোধীদের “সস্তার প্রচার”-এর হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। ফলতা উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন, “যে দল কার্যত উঠে গেছে এবং উপনির্বাচনে চতুর্থ হয়েছে, তাদের লোকেদের বিরুদ্ধে মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে।”
পরিবর্তনের এক মাস:
সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসেরও কম সময়ে প্রশাসনিক স্তরে কতটা বদল এসেছে, তা নিয়েও মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, “শুধু মুখের বদল বা দলের বদল নয়, ব্যবস্থার বদল হয়েছে। প্রশাসন, পুলিশ এবং সংবাদমাধ্যম—সব ক্ষেত্রেই নতুন স্বচ্ছতা ও সক্রিয়তা সাধারণ মানুষ দেখতে পাচ্ছেন।”
রাজ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নিয়ম মেনেই সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর বলে এদিন নবান্ন থেকে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।