ত্রাণ সামগ্রী পাচারের ছক! তৃণমূল নেতার আত্মীয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার সরকারি সার ও কিট

ফের সরকারি ত্রাণ সামগ্রী চুরির অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি। শাসকদলের এক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয়ের বাড়ি থেকে সরকারি সার ও আমফান পরবর্তী ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত কৃষি কর্মাধ্যক্ষকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে কুলতলি থানার পুলিশ।
কীভাবে ফাঁস হলো দুর্নীতি?
অভিযোগের তির কুলতলি পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ পূর্ণেন্দু হালদারের দিকে। এলাকাবাসীর দাবি, গোপন সূত্রে তাঁরা খবর পান যে, দেউলবাড়ি-দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় শাসকদলের নেতার আত্মীয়ের বাড়িতে সরকারি সার মজুদ করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, পাশের আরেকজনের বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে আমফান ঘূর্ণিঝড়ের সময়কার সরকারি ত্রাণ সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ত্রাণ বণ্টনে ব্যাপক দুর্নীতি চালিয়েছেন শাসকদলের এই নেতারা। গরিবের প্রাপ্য সামগ্রী নিজেদের বাড়িতে মজুত করে রাখা হতো, যা এতদিন প্রকাশ্যে আসেনি।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কুলতলিতে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিজেপির পদপ্রার্থী মাধবী মহলদার বলেন, “এই সরকার গরিবের হকের টাকা ও সামগ্রী আত্মসাৎ করতে সিদ্ধহস্ত। অবিলম্বে পূর্ণেন্দু হালদারের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
পুলিশের পদক্ষেপ
ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি এলাকায় পৌঁছায় কুলতলি থানার পুলিশ। বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ ও সার উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় কৃষি কর্মাধ্যক্ষ পূর্ণেন্দু হালদারকে। প্রাথমিক তদন্তের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
শাসকদলের নেতার বাড়িতেই সরকারি সামগ্রী পাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এই ঘটনায় কুলতলির রাজনৈতিক মহল এখন তোলপাড়।