লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ‘লুটেরাদের’ রাজত্ব! ৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্টের হদিশ পেয়ে SIT গঠনের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের সরকারি প্রকল্পগুলোতে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে এদিন নবান্নের সভাঘরে এক বিস্ফোরক সাংবাদিক সম্মেলন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুঠ হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনে তিনি এই ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
দুর্নীতির অলিগলি: রাকিবুল থেকে মুস্তাফিজুর
বহরমপুর থানার একটি নির্দিষ্ট মামলার (কেস নং ৮৪৩/২০২৬) উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখনও পর্যন্ত ২২টি ভুয়ো অ্যাকাউন্টের হদিশ মিলেছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাকিবুল শেখ, মুস্তাফিজুর রহমান ও তারিকুল রহমানের মতো ব্যক্তিরা এই দুর্নীতির মূল চক্রী। মজার বিষয় হলো, নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও, এখানে পুরুষদের অ্যাকাউন্টেও টাকা ঢুকেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মুস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী তুহিনা একাই ১৫টি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছেন।
মানি লন্ডারিংয়ের ইঙ্গিত
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “৩০ লক্ষ মানুষ যে টাকা তুলছে, তা সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ। এটি কেবল তছরূপ নয়, রীতিমতো মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনা। আমি ডিজি-কে নির্দেশ দিয়েছি অবিলম্বে এসআইটি গঠন করে তদন্ত শুরু করতে।” যারা এই লুঠের সঙ্গে যুক্ত, তাদের ‘গ্রাসরুট’ বা তৃণমূল স্তর থেকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
পুরানো সরকারের দুর্নীতির খতিয়ান
শুধুমাত্র লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নয়, পূর্বতন সরকারের আমলে যুবশ্রী ও ইমাম ভাতা নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পশ্চিম মেদিনীপুরে এক পুরুষ বিধবা ভাতা পাচ্ছিলেন! চার পাশ করা ব্যক্তিকে যুবশ্রী দেওয়া হয়েছে। এর থেকেই বোঝা যায়, আগে কোনো ভেরিফিকেশনই ছিল না।” প্রাক্তন শাসকদলকে বিঁধে তিনি বলেন, “এটা দুর্নীতির পাঠশালা, কালীঘাটের টালির চালা।”
নারীকল্যাণে নতুন পদক্ষেপ
দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি এদিন নারীশক্তির ক্ষমতায়নে সরকারের নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি-র ‘সংকল্পপত্র’ অনুযায়ী, আজ থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা চালু করা হয়েছে। এছাড়া অন্নপূর্ণা যোজনার অনলাইন আবেদনের প্রক্রিয়াও আজ থেকে শুরু হয়েছে। তিনি জানান, ২০ জন প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পদমর্যাদার অফিসারকে জেলাগুলিতে নজরদারির জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। আগামী বুধবার থেকে যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নতুন করে টাকা পাঠানো শুরু হবে।
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্নীতিবাজরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, জনগণের টাকা লুঠের শাস্তি তাদের পেতেই হবে। এখন দেখার বিষয়, এসআইটি-র তদন্তে আর কোন কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।