LPG-ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা, ১ জুন থেকে কার্যকর নতুন নিয়ম

গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। ১ জুন, ২০২৬ থেকে সারা দেশে কার্যকর করা হলো এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার সংক্রান্ত একগুচ্ছ নতুন নিয়ম। বিশেষ করে যেসব পরিবারে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস (PNG) সংযোগ রয়েছে, তাদের জন্য এই নিয়ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৩০ দিনের কড়া সময়সীমা: সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব এলাকায় গ্যাস গ্রিড বা পিএনজি সংযোগ সক্রিয় রয়েছে, সেখানে ‘দ্বৈত গ্যাস সংযোগ’ ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হচ্ছে। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যদি কোনো গ্রাহকের পিএনজি সংযোগ থাকে, তবে তাঁকে অবশ্যই তাঁর বিদ্যমান এলপিজি সিলিন্ডার সংযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্পণ (Surrender) করতে হবে। নতুন নিয়মে পিএনজি সংযোগ সক্রিয় হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এই কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায়, সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের এলপিজি সংযোগ বাতিল বলে গণ্য হবে।

কেন এই কড়াকড়ি? বিশ্ববাজারে গ্যাস সঙ্কট ও পশ্চিম এশিয়ার অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানির যোগান বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার পিএনজি সংযোগের প্রসার ঘটালেও অনেক পরিবার পিএনজি নেওয়ার পরেও এলপিজি সিলিন্ডার ধরে রেখেছেন, যা গ্যাস সঙ্কটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। এই প্রবণতা ঠেকাতেই ‘এক পরিবার এক সংযোগ’ নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।

সিলিন্ডার ফেরত দিলে কি আর মিলবে না? এক্ষেত্রে গ্রাহকদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই। ইন্ডেন, ভারত গ্যাস ও এইচপি গ্যাসের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি (OMCs) ‘ট্রান্সফার ভাউচার’ ব্যবস্থা চালু করেছে। এর ফলে কোনো গ্রাহক যদি বর্তমানে পিএনজি এলাকায় থাকার কারণে এলপিজি সমর্পণ করেন, তবে ভবিষ্যতে তিনি যদি এমন কোনো এলাকায় স্থানান্তরিত হন যেখানে পিএনজি সংযোগ নেই, সেক্ষেত্রে তিনি পুনরায় আইনি প্রক্রিয়ায় এলপিজি সংযোগ ফিরে পাওয়ার অধিকার পাবেন।

বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি: জুন মাসের প্রথম দিনেই এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ১৪ কেজি ওজনের গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের দাম (৯১৩ টাকা) অপরিবর্তিত থাকলেও, ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৪২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে দিল্লিতে একটি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৩,১১৩.৫০ টাকা।

গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে প্রশাসনের পরামর্শ, পিএনজি সংযোগ গ্রহণকারী প্রতিটি পরিবার যেন ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যে তাদের এলপিজি সংযোগ সমর্পণের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো আইনি জটিলতায় পড়তে না হয়।