ফ্ল্যাট কিনেছেন তো? সাবধান! বেআইনি নির্মাণে আইনি সুরক্ষা মিলবে না, জানাল আদালত

আপনি কি ফ্ল্যাট কেনার কথা ভাবছেন? তবে কেনার আগে সাবধান হোন। বেআইনিভাবে তৈরি করা ফ্ল্যাট কিনলে ভবিষ্যতে কোনো আইনি সুরক্ষাই মিলবে না। সম্প্রতি হাওড়ার একটি বেআইনি বহুতল সংক্রান্ত মামলায় এই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি থাকলেও অবৈধ নির্মাণ ভাঙার ক্ষেত্রে ক্রেতারা কোনোভাবেই বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন না।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:
হাওড়া পুরসভা এলাকার একটি চারতলা বাড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তারা অনুমোদিত নকশা না মেনেই নির্মাণ কাজ চালিয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, ওই ভবনটি তিনতলা পর্যন্ত তৈরির অনুমতি থাকলেও, চতুর্থ তলাটি সম্পূর্ণ বেআইনি। পুরসভা সেই অংশ ভাঙার নির্দেশ দেয়। এরই মধ্যে মৌসুমী রায় নামক এক ব্যক্তি চারতলার একটি ফ্ল্যাট কেনেন। ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি হয়ে যাওয়ার পর পুরসভার ভাঙার নোটিশে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।

আদালতের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ:
বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাকারীর সমস্ত যুক্তি খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ:

জমির মালিকের চেয়ে বেশি অধিকার নেই: আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বেআইনি সম্পত্তির ওপর ফ্ল্যাট ক্রেতার অধিকার, মূল মালিকের চেয়ে বেশি হতে পারে না।

বিশেষ সুরক্ষার দাবি নাকচ: অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে ক্রেতারা আলাদা কোনো আইনি সুরক্ষা দাবি করতে পারেন না।

শুনানির বাধ্যবাধকতা নেই: প্রতিটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আগে ব্যক্তিগত শুনানি করতেই হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই।

প্রশাসনের হাতে এখন খোলা পথ:
সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিলেন ফ্ল্যাট ক্রেতারা। তবে আদালতের এদিনের রায়ের ফলে হাওড়া পুরসভার কাছে বেআইনি চতুর্থ তলা ভেঙে ফেলার পথে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

সচেতনতার বার্তা:
রাজ্যে ক্রমবর্ধমান বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া অবস্থানের মধ্যেই আদালতের এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণ মানুষকে সতর্ক হওয়ার বার্তা দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্ল্যাট কেনার আগে অবশ্যই অনুমোদিত নকশা এবং পুরসভার নথিপত্র যাচাই করে নেওয়া উচিত। অন্যথায়, জীবনের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে কেনা ফ্ল্যাট মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।