উপভোক্তাদের কাছে দ্রুত পৌঁছাবে টাকা, অন্নপূর্ণা যোজনার তদারকিতে ২২ দুঁদে আইএএস আধিকারিক

রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ বা ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর সুবিধা যাতে কোনো যোগ্য উপভোক্তা মিস না করেন, তা নিশ্চিত করতে মরিয়া নবান্ন। প্রতিটি উপভোক্তার হাতে তিন হাজার টাকা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এবার সরাসরি প্রশাসনিক তদারকির ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্যের ২২টি জেলার দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়েছে ২২ জন সিনিয়র আইএএস (IAS) অফিসারকে।

কী এই বিশেষ উদ্যোগ? গত ৩০ মে মুখ্যসচিবের কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশিকা (মেমো নং: ১৫৭-সিএস/২০২৬) অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে আবেদনপত্র বিতরণ এবং তা জমা নেওয়ার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আজ, ৩১ মে থেকেই এই আইএএস আধিকারিকরা তাঁদের নির্ধারিত জেলায় পৌঁছে গিয়েছেন এবং সরাসরি নজরদারি শুরু করেছেন।

প্রশাসনের কড়া নির্দেশিকা:

  • ডেডলাইন: ২ জুনের মধ্যে প্রতিটি জেলাকে তাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা আবশ্যিকভাবে পূরণ করতে হবে।

  • পেমেন্ট শুরু: লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পরই ৩ জুন থেকে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

  • মাঠ পর্যায়ের কাজ: অঙ্গনওয়াড়ি ও আশা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সহায়তা করবেন। জেলাশাসকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন কোনো যোগ্য উপভোক্তা এই প্রকল্পের বাইরে না থাকেন।

কোন জেলায় কার নজরদারি? রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের কর্মকর্তাদের এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু নিয়োগ:

  • কলকাতা: প্রভাত কুমার মিশ্র

  • উত্তর ২৪ পরগনা: বিনোদ কুমার

  • দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ওঙ্কার সিং মিনা

  • হাওড়া: বন্দনা যাদব

  • হুগলি: ছোটেন ডি লামা

  • পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর: সুরেন্দ্র গুপ্ত ও মণীশ জৈন

  • দার্জিলিং ও কালিম্পং: বরুণ কুমার রায়

(অন্যান্য জেলার ক্ষেত্রে বীরভূমের দায়িত্বে শান্তনু বসু এবং মুর্শিদাবাদের দায়িত্বে নারায়ণ স্বরূপ নিগম-সহ মোট ২২ জন আধিকারিককে বণ্টন করা হয়েছে।)

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নতুন সরকারের এই জনমুখী প্রকল্প নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বিরোধীরা যতই সরব হোক, সরকার যে দ্রুত আর্থিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে মরিয়া, এই আইএএস নিয়োগই তার বড় প্রমাণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।