সিসিটিভি-তে মুখ ঢাকা ছিল, তবু এআই-এর কাছে হার মানল ধূর্ত অপরাধী! জয়পুরে অবিশ্বাস্য উদ্ধারকাজ

অপরাধীদের দমনে এবার প্রযুক্তি হয়ে উঠল পুলিশের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। সিসিটিভি ফুটেজে মুখ ঢাকা থাকায় যে অপরাধীকে শনাক্ত করা ছিল প্রায় অসম্ভব, সেই ধূর্ত নিখিল তিওয়ারিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর সাহায্যে গ্রেপ্তার করে নজির গড়ল রাজস্থানের জয়পুর পুলিশ। সম্প্রতি জয়পুরের ভাঙ্করোটা এলাকায় এক বয়স্ক দম্পতিকে জিম্মি করে ৪৮ লক্ষ টাকা লুটের ঘটনায় পুলিশ এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে।

কীভাবে ফাঁকি দিচ্ছিল নিখিল?
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত নিখিল তিওয়ারি ছিল অত্যন্ত ধূর্ত। ডাকাতির পর থেকে সে সবসময় এমনভাবে টুপি পরে থাকত, যাতে সিসিটিভি ক্যামেরায় তার মুখ কোনোভাবেই ধরা না পড়ে। পুলিশ তদন্তে নেমে বহু এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করলেও, কোথাও তার স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে তদন্ত একপ্রকার থমকে গিয়েছিল।

এআই-এর ম্যাজিকে সাফল্য
তদন্তকারী দল হাল না ছেড়ে পুলিশের কারিগরি শাখার সাহায্য নেয়। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একাধিক অস্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নিখিলের নিখুঁত ছবি তৈরি করা হয়। এরপর সেই ছবি পুলিশের জাতীয় ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। নিমেষের মধ্যে মেলে নিখিল তিওয়ারির পরিচয়। এরপরই শুরু হয় প্রযুক্তিগত নজরদারি।

স্ত্রী’র ফোনের সূত্র ধরে পিছু নেওয়া
নিখিল ক্রমাগত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করছিল এবং ছদ্মনাম ব্যবহার করছিল। তবে পুলিশের প্রযুক্তিগত দল নিখিলের স্ত্রী’র মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে জানতে পারে সে উত্তরপ্রদেশের গৌতম বুদ্ধ নগরে লুকিয়ে আছে। সেখানে গিয়েও পুলিশ এক ডজনের বেশি ভবনে ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে। শেষে বাসযোগে পালানোর সময় একটি টোল প্লাজায় পুলিশ তাকে পাকড়াও করে।

কী ঘটেছিল সেই ঘটনায়?
গত ২১ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত নিখিল ওই বয়স্ক দম্পতিকে জিম্মি করে রাখে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মোট ৪৭.৯০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে তাকে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপরাধ জগতের অন্যদের সঙ্গে তার যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

প্রযুক্তির এই আধুনিক ব্যবহার যে অপরাধীদের লুকিয়ে থাকার জায়গা কমিয়ে দিচ্ছে, এই ঘটনাটি তারই বড় প্রমাণ।