নারদ-তদন্তের অনুমোদন চাইবেন কল্যাণ! কাকলিকে নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দুই সাংসদের প্রকাশ্য বিবাদ এবার চরমে। কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে চলা এই সংঘাত এখন আর কেবল বাকবিতণ্ডায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা আইনি ও প্রশাসনিক লড়াইয়ের দিকে মোড় নিয়েছে।
কী অভিযোগ কাকলির?
সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, লোকসভার অধিবেশন চলাকালীন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে মৌখিকভাবে গালিগালাজ করেছেন। শুধু তাই নয়, মহিলা সাংসদদের প্রতি কল্যাণের আচরণ ‘অসম্মানজনক ও অনুচিত’—এই মর্মে স্পিকারের কাছে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
পাল্টা তোপ কল্যাণের:
কাকলির এই সমস্ত অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি স্পষ্ট জানান, এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তবে এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বিরুদ্ধে একটি বড়সড় পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কল্যাণ।
সিবিআই ও নারদ ইস্যুকে হাতিয়ার:
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি দাবি করেন, নারদা কাণ্ডে কাকলি ঘোষ দস্তিদার ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন এবং সেই মামলায় সিবিআই তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিটও জমা দিয়েছে। কল্যাণের কথায়, “স্পিকারের কাছে সিবিআই তদন্তের জন্য অনুমতি চেয়েছিল, কিন্তু তা এখনও মেলেনি। আমি স্পিকারের কাছে আবেদন জানাব যেন সেই অনুমতি দেওয়া হয়।” তাঁর প্রশ্ন, কেন একজন সাংসদ আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন বা ‘প্রিভিলেজড’ সুবিধা পাবেন?
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
দলের দুই শীর্ষ নেতৃত্বের এই লড়াই তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। লোকসভার অন্দরে দুই সহকর্মীর এই আচরণ একদিকে যেমন শৃঙ্খলাভঙ্গের ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে নারদ ইস্যুকে টেনে এনে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখন দেখার, লোকসভার অধ্যক্ষ এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেন।