আমলাদের পারফরম্যান্সই শেষ কথা! কাজের নিরিখেই সচিবদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের কড়া নির্দেশ নবান্নের

‘আনুগত্য নয়, কাজই শেষ কথা’—রাজ্যের বর্তমান সরকারের নতুন প্রশাসনিক নীতিতে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের সচিবদের কাজের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই এবার তাঁদের ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল।

পারফরম্যান্সই মানদণ্ড:
নবান্ন সূত্রে খবর, প্রতিটি দফতরের সচিবদের কাজের গুণগত মান, প্রকল্পের দ্রুত রূপায়ণ এবং নির্ভুল কাজের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন হবে। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিভিন্ন দফতরের কাজের রিপোর্ট পর্যালোচনা করবেন। নতুন সরকারের গৃহীত জনকল্যাণমুখী প্রকল্প ও কর্মসূচিগুলি কতটা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, তার ওপরই নির্ভর করছে সচিবদের আগামী দিনের দায়িত্ব।

১৫-১৭ জুন রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবির:
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন গোটা রাজ্যজুড়ে বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’ বা ক্যাম্পের আয়োজন করা হচ্ছে। এই শিবিরের মূল লক্ষ্যগুলি হলো:

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার: এই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া ও ফর্ম পূরণে সাধারণ মানুষকে হাতে-কলমে সহায়তা করা।

কেন্দ্রীয় ও রাজ্য প্রকল্পের মেলবন্ধন: বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষ কীভাবে পেতে পারেন, তার বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন প্রক্রিয়া এই শিবির থেকে জানানো হবে।

সচেতনতা বৃদ্ধি: রাজ্য সরকারের নিজস্ব প্রকল্পগুলির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়েও প্রচার চালানো হবে।

স্বাস্থ্যসাথী ও স্বচ্ছতা:
স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করেছেন যে, আয়ুষ্মান ভারতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা বন্ধ হবে না। তবে তালিকা থেকে মৃত, ভুয়া বা অস্তিত্বহীন প্রায় ৩০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যাতে প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তারা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন।

মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে প্রশাসনিক স্তরে দায়বদ্ধতা বাড়বে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারসহ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সঠিক রূপায়ণে এই শিবিরগুলি সাধারণ মানুষের কাছে আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।