চিন-পাক সীমান্তে ভারতের বাড়ল শক্তি! রাশিয়ার সঙ্গে ফের বড়সড় এস-৪০০ মিসাইল চুক্তি

জাতীয় নিরাপত্তা এবং আকাশসীমার সুরক্ষায় আরও একধাপ এগিয়ে গেল ভারত। অত্যন্ত শক্তিশালী ও আধুনিক ‘এস-৪০০’ (S-400) দূরপাল্লার বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আরও একটি ব্যাচ কেনার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ভারত। রুশ সরকারি সংস্থা ‘ফেডারেল সার্ভিস ফর মিলিটারি-টেকনিক্যাল কো-অপারেশন’ (FSVTS)-এর পক্ষ থেকে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
চুক্তির বর্তমান পরিস্থিতি: ২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় ৪৫,০০০ কোটি টাকার যে ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল, তা এখন শেষ পর্যায়ে। ভারত মোট পাঁচটি এস-৪০০ সিস্টেম কেনার কথা ছিল, যার মধ্যে তিনটি ইতিমধ্যে হাতে পেয়েছে ভারত। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সংস্থার প্রধান দিমিত্রি শুগায়েভ জানিয়েছেন, অবশিষ্ট দুটি সিস্টেমের একটি এই মাসের মধ্যেই এবং শেষটি নভেম্বরের মধ্যে ভারতের হাতে পৌঁছাবে। এর মাঝেই নতুন ব্যাচ কেনার আগ্রহ ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তিকে আরও সুসংহত করবে।
ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার লক্ষ্য: মার্চ মাসে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার একটি বড় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই প্যাকেজে এস-৪০০-এর আরও পাঁচটি ব্যাচের পাশাপাশি উন্নত পরিবহণ বিমান এবং আধুনিক ড্রোন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভারত সরকার মূলত দু’টি লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে:
-
আধুনিকীকরণ: পুরনো সোভিয়েত আমলের অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে ভারতীয় বাহিনীকে সাজিয়ে তোলা।
-
আত্মনির্ভরতা: ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে বিদেশি প্রযুক্তির সাথে যৌথ উদ্যোগে ভারতে অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো।
অন্যান্য দেশের ওপর নির্ভরতা হ্রাস: ভারত এখন আর কোনো নির্দিষ্ট একটি দেশের ওপর নিরাপত্তার জন্য নির্ভরশীল থাকতে চায় না। রাশিয়া ভারতের প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার হলেও, গত কয়েক বছরে ফ্রান্স, ইসরায়েল, আমেরিকা ও জার্মানির মতো দেশগুলোর সঙ্গেও ভারত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে অস্ত্র আমদানিতে ভারত দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হলেও, সাম্প্রতিককালে ভারত নিজেই অস্ত্র রপ্তানির পথেও দ্রুত এগোচ্ছে।
কেন এস-৪০০ গেম-চেঞ্জার? এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম আকাশপথে আসা যেকোনো শত্রুর ড্রোন, মিসাইল বা যুদ্ধবিমানকে ৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে নির্ভুলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম। চিন ও পাকিস্তান সীমান্তে ভারতের আকাশসীমাকে সুরক্ষিত রাখতে এই প্রযুক্তি এক অজেয় কবচ হিসেবে কাজ করছে।
ভারতের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।