বকেয়া ডিএ-র হাল কী? নতুন সরকারের কাছে রিপোর্ট চাইল সুপ্রিম কোর্ট

রাজ্য প্রশাসনের পালাবদল ঘটলেও সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) আদায়ের লড়াই এখনো জারি। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে ডিএ মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের কাছে ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ বা অগ্রগতির খতিয়ান তলব করল সর্বোচ্চ আদালত।

আদালতের নির্দেশ: পূর্বতন সরকারের আমলে ডিএ মেটানোর ক্ষেত্রে যে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট, বর্তমান প্রশাসন সেই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা জানতে চায় আদালত। আগামী জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে। তার আগেই রাজ্য সরকারকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১ জুনের নবান্ন বৈঠকই কি শেষ কথা? মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও করুণা নন্দী আদালতকে জানান, আগামী ১ জুন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক রয়েছে। কর্মচারীদের আশা, এই আলোচনার মাধ্যমেই বকেয়া মেটানোর একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ বা নীলনকশা তৈরি হতে পারে। আদালতের তরফ থেকে এই যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে পরবর্তী শুনানির তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

কী ছিল আদালতের পুরনো নির্দেশ? উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, ডিএ সরকারি কর্মচারীদের আইনত প্রাপ্য অধিকার। তৎকালীন রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে বলা হয়েছিল। এছাড়া বাকি ৭৫ শতাংশ মেটানোর জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশ থাকলেও, পূর্বতন সরকারের আমলে তা নিয়ে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ দেখা যায়নি। গত ফেব্রুয়ারিতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’ আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।

কর্মচারীদের প্রত্যাশা: ৩১ মার্চের মধ্যে ৭৫ শতাংশ বকেয়ার প্রথম কিস্তি মেটানোর নির্দেশ থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মচারীদের মধ্যে আশার আলো দেখা দিয়েছে। এখন নবান্ন সুপ্রিম কোর্টে ঠিক কী রিপোর্ট পেশ করে এবং ১ জুনের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্যের কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মচারী।