“ঘুরতে যেতেই হবে!”-সরকারি কর্মীদের জন্য আজব নির্দেশ বিহার সরকারের, জেনে নিন কারণ

সপ্তাহান্তের দু’দিন সপরিবারে ঘুরতে যান— কোনো পর্যটন সংস্থা নয়, বরং খোদ বিহার সরকার তাদের রাজ্যের সরকারি কর্মী ও আধিকারিকদের এই নির্দেশ দিয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং রাজ্যের পরিবেশবান্ধব পর্যটনকে উৎসাহিত করতে বিহারের সাধারণ প্রশাসন দপ্তর এক অভিনব নির্দেশিকা জারি করেছে।

নির্দেশিকায় কী রয়েছে? নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিহারের প্রত্যেক সরকারি কর্মচারী এবং আধিকারিককে প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার ‘শর্ট ট্রিপ’-এ যেতেই হবে। এই সফরের জন্য শুক্র ও শনিবারকে বেছে নিতে বলা হয়েছে। তবে শর্ত একটাই— নিজের জেলা বা কাজের জেলা ছেড়ে অন্য কোনো জেলায় ঘুরতে যেতে হবে।

খরচ ও ব্যবস্থা: ভ্রমণের যাতায়াত বা অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ সরকার বহন করবে না। তবে থাকা বা আবাসনের ব্যবস্থা করবে জেলা প্রশাসন, পর্যটন এবং বন দপ্তর। সরকারি গেস্ট হাউস বা বেসরকারি হোটেল বুকিংয়ে আধিকারিকদের সাহায্য করা হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ভ্রমণে গিয়ে কোনো সরকারি বৈঠক বা পরিদর্শন (Inspection) করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

‘অন-ডিউটি’ ভ্রমণ ও রিপোর্ট কার্ড: এই ভ্রমণকে ছুটি হিসেবে গণ্য করা হবে না, বরং আধিকারিকরা ‘অন-ডিউটি’ থাকবেন। স্রেফ ভ্রমণ নয়, ফিরে আসার পর প্রত্যেককে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কোথায় গেলেন, কী দেখলেন এবং পর্যটন কেন্দ্রের পরিকাঠামো কেমন— ছবিসহ তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিতে হবে জেলাশাসক বা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে। এই রিপোর্ট সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি বিভাগে একজন করে ‘নোডাল অফিসার’ নিয়োগ করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য কী? বিহার সরকারের দাবি, রাজ্যে এমন অনেক ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থান রয়েছে যা এখনও প্রচারের আলো পায়নি। সরকারি কর্মীরা সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের ‘হোম-স্টে’-তে থাকলে একদিকে যেমন গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে পরিকাঠামোর ত্রুটিগুলোও সরকার দ্রুত শনাক্ত করতে পারবে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের সরেজমিনে পর্যটন ক্ষেত্রগুলো ঘুরে দেখার মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের উন্নতির নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়াই এই অদ্ভুত অথচ উদ্ভাবনী উদ্যোগের আসল উদ্দেশ্য।