পুকুরেই কি লুকিয়ে কোটি টাকার রহস্য? কান্দিতে শান্তনু সিনহার বাড়িতে ফের হানা ইডি-র!

রাজ্যের দুর্নীতি মামলার তদন্তে ফের একবার মুর্শিদাবাদের কান্দিতে সক্রিয় ইডি (ED)। গত শুক্রবার সিল করে দেওয়া কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের পৈতৃক বাড়িতে মঙ্গলবার ফের অভিযান চালালেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। প্রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে তল্লাশি। আর এই তল্লাশির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বাড়ির অন্দরের একটি রহস্যময় পুকুর।

পুকুর ঘিরে রহস্য:
ইডি সূত্রে খবর, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের পৈতৃক বাড়ির ওই পুকুরটি আগে থেকেই গোয়েন্দাদের নজরে ছিল। অভিযোগ, পুকুরের চারপাশ নতুন পাঁচিল ও কাঁটাতারে মুড়ে রাখা হয়েছে, যা আগে ছিল না। এমনকি গোটা পুকুরটি সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে রাখা। স্থানীয়দের দাবি, দু’বছর আগে পর্যন্ত যে পুকুরের জল স্বচ্ছ ছিল, এখন তা বেশ নোংরা। অতীতের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার পুকুরে মোবাইল ফোন লুকোনোর ঘটনার ছায়া দেখছেন অনেকেই। ইডি আধিকারিকরা কি তবে এই পুকুরের গভীরে লুকিয়ে থাকা ‘গোপন তথ্যের’ সন্ধানে রয়েছেন? শান্তনু সিনহার নিখোঁজ মোবাইল ফোনটি কি এই পুকুরেই লুকিয়ে রাখা হয়েছে? এই প্রশ্নই এখন কান্দি জুড়ে।

রাজপ্রাসাদ সদৃশ বাড়ির রূপান্তর:
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বাড়িটি একসময় প্রায় ভগ্নস্তূপের মতো ছিল। স্থানীয় কাউন্সিলর তথা শান্তনু সিনহার দিদি গৌরী বিশ্বাস এখানেই থাকতেন। কিন্তু গত ২-৩ বছরে এই বাড়ির ভোল পুরোপুরি পাল্টে গিয়েছে। জরাজীর্ণ বাড়ি এখন রাজপ্রাসাদের রূপ নিয়েছে। কীভাবে এক পুলিশ অফিসারের পৈতৃক বাড়ির এই আমূল পরিবর্তন হলো, তা নিয়ে তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে সম্পত্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব।

তদন্তের অগ্রগতি:
আন্দুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান মামণি রাজবংশীকে সাক্ষী রেখে গতকাল ইডি আধিকারিকরা পুনরায় বাড়িটিতে প্রবেশ করেন। বাড়িটির প্রতিটি কোণ তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ইডি-র পরবর্তী লক্ষ্য, এই সম্পত্তির আয়ের উৎস খুঁজে বের করা এবং সেই সংক্রান্ত তথ্য আদালতে পেশ করা।

পুকুরের জল সেচে বা ডুবুরি নামিয়ে কি কোনো বড় তথ্য উদ্ধার করতে পারবে ইডি? সেটাই এখন দেখার বিষয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই অভিযান রাজ্য রাজনীতির আরও বড় কোনো রহস্য উন্মোচন করতে পারে।