বকেয়া ডিএ-র জট কি খুলবে? আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকের দিনক্ষণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী

বকেয়া ডিএ (DA) এবং সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া নিয়ে অবশেষে সরাসরি আলোচনায় বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নের তরফে বৈঠকের সময়সূচীতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত ৩০ মে-র পরিবর্তে আগামী ১ জুন, সোমবার বিকেল ৫টায় নবান্নের ১৪ তলার কনফারেন্স রুমে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
কী জানা যাচ্ছে এই বৈঠক নিয়ে?
রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলিকে ইতিমধ্যেই বৈঠকের বিষয়টি জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ এই খবর নিশ্চিত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আমরা আশাবাদী, মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত সমস্যার একটি সুনির্দিষ্ট সমাধান সূত্র বের করবেন।”
সরকারের রণকৌশল:
সম্প্রতি রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের অনুমোদন দেওয়া হলেও, ডিএ নিয়ে সরাসরি কোনো ঘোষণা না আসায় কর্মচারীদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছিল। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাত চান না। আইনি জটিলতা এড়িয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মুখোমুখি বসে বকেয়া মেটানোর একটি সুনির্দিষ্ট ‘ব্লুপ্রিন্ট’ তৈরি করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।
কাদের ডাকা হয়েছে?
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মূলত যে সংগঠনগুলি ডিএ নিয়ে দীর্ঘদিন আদালতে আইনি লড়াই চালাচ্ছে, তাদেরই এই বৈঠকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, কনফেডারেশন অফ গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ, ইউনিটি ফোরাম এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী পরিষদ। তবে অন্যান্য সংগঠনকে না ডাকায় এই ইস্যু নিয়েও কিছুটা চাপা অসন্তোষ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে এখনও কোনো ডাক পৌঁছায়নি।
বৈঠকের গুরুত্ব:
প্রশাসন মনে করছে, আইনি লড়াইয়ের বাইরে বেরিয়ে কীভাবে দ্রুত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পাওনা মিটিয়ে দেওয়া যায়, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হবে ওইদিন। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ রাজ্য সরকারি কর্মীদের বহু প্রতীক্ষিত ডিএ সংকটে বড় কোনো সুখবর নিয়ে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার।