সন্দেশখালিতে সিবিআইয়ের মেগা অ্যাকশন! ৩ বিজেপি কর্মী খুনে শাহজাহান-ঘনিষ্ঠ ১০ জন গ্রেফতার

উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন–পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার একটি পুরনো মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI) অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিল। মঙ্গলবার রাতে সন্দেশখালির বিভিন্ন এলাকায় বড়সড় অভিযান চালিয়ে শেখ শাহজাহান–ঘনিষ্ঠ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে সন্দেশখালির রাজনৈতিক পারদ আবারও তুঙ্গে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
কী ঘটেছিল: ২০১৯ সালের ৮ জুন লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের কিছুদিন পর সন্দেশখালির ন্যাজাট এলাকায় পতাকা খোলাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। অভিযোগ, সেই সময় তৎকালীন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের অনুগামীরা বিজেপি কর্মীদের ওপর নৃশংস হামলা চালায়।
ভয়াবহ পরিণাম: ওই সংঘর্ষে বিজেপি কর্মী সুকান্ত মণ্ডল এবং প্রদীপ মণ্ডল ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এছাড়া দেবদাস মণ্ডল নামে আরও এক বিজেপি কর্মী নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁর পরিবার দাবি করে, তাঁকেও খুন করে দেহ গুম করে দেওয়া হয়েছে।
কেন এই গ্রেফতারি?
দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি স্থানীয় থানা ও পরে সিআইডি (CID)-এর হাতে থাকলেও তেমন কোনো কিনারা হয়নি। পরবর্তীতে নিহতদের পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্ট মামলাটি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয়। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে মঙ্গলবার রাতে বড়সড় অভিযান চালান।
ধৃতদের পরিচয়: ধৃতদের মধ্যে অন্যতম হলেন হাটগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান কাদের মোল্লা, যিনি স্থানীয়ভাবে শেখ শাহজাহানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে খুন, এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি ও ভোট–পরবর্তী হিংসার একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তের গতি: তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার আরও গভীরে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। ধৃতদের বুধবারই আলিপুর বিশেষ আদালতে পেশ করা হবে এবং তাঁদের নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানানো হবে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
এই গ্রেফতারির পর থেকেই সন্দেশখালির রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপি এই পদক্ষেপকে ‘দীর্ঘদিনের বিচার পাওয়ার লড়াইয়ের জয়’ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, ঘটনার পর থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ধৃতদের জেরা করে এই খুনের ঘটনায় আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই গ্রেপ্তারি মামলাটিকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই ধারণা করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।