দুর্নীতির মামলায় ইডির নজরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, কেরলের ১২টি জায়গায় তল্লাশি

কেরলের রাজনীতিতে এখন বড়সড় তোলপাড়। আর্থিক দুর্নীতি ও তছরুপের মামলায় অভিযুক্ত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়নের ভাড়া বাড়িতে তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বুধবার সকাল থেকে কেরলের অন্তত ১২টি জায়গায় একযোগে অভিযান চালিয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।

মামলার প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালে একটি বেসরকারি সংস্থা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, একাধিক প্রকল্পে বিপুল অর্থ তছরুপ করা হয়েছে এবং সেই অর্থের একাংশ বেআইনি পথে হাতবদল হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ইডি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে (PMLA) মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।

কেন এই তল্লাশি?
সিএমআরএল (CMRL) নামের একটি সংস্থা এই মামলার তদন্ত বাতিল করার আর্জি জানিয়ে কেরালা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই বুধবার ভোরে সক্রিয় হয়ে ওঠে ইডি। তল্লাশির পাশাপাশি পিনারাই বিজয়নের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকাও এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক তোলপাড়
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই বর্তমান কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে নেমেছে। মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন এই বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। প্রশাসনিক স্তরেও শুরু হয়েছে বড় পদক্ষেপ:

পুলিশ আধিকারিক বরখাস্ত: পিনারাই বিজয়নের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পাঁচ পুলিশ আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন।

ঊর্ধ্বতন কর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত: রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এম আর অজিত কুমারের বিরুদ্ধে তদন্ত বিপথে চালিত করার অভিযোগ উঠেছে।

রাজনৈতিক সংঘাত
বাম শিবিরের দাবি, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়। সিপিএম নেতাদের অভিযোগ, ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই পিনারাই বিজয়ন ও বাম নেতৃত্বকে নিশানা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের হেনস্তা করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস ও বিজেপি উভয় দলই সাফ জানিয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

ইডি সূত্রে খবর, তল্লাশি থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথি ও ডিজিটাল তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। আগামী দিনে এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন করে সমন জারি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই অভিযান কেরলের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলল।