‘মা নেই, কেউ নেই!’ একাকীত্বের যন্ত্রনায় ভেঙে পড়লেন বলিউড ‘ড্রামা ক্যুইন’ রাখি

বলিউডের ‘ড্রামা ক্যুইন’ হিসেবে পরিচিত রাখি সাওয়ান্তকে আমরা সবসময় হাসিখুশি এবং ক্যামেরার সামনে প্রাণবন্ত রূপেই দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু সেই ঝকমকে প্রচারের আড়ালে যে কত গভীর যন্ত্রণা লুকিয়ে আছে, তা সম্প্রতি ভারতী সিং ও হর্ষ লিম্বাচিয়ার পডকাস্টে এসে অকপটে স্বীকার করলেন অভিনেত্রী। রাখির সেই আবেগঘন মুহূর্ত দেখে শুধু ভারতী নন, চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি নেটপাড়ার বাসিন্দারাও।

“বাড়িটা এখন শ্মশানের মতো” নিজের জীবনের লড়াই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাখি। তিনি বলেন, “আমি খুব কাঁদি। গতকাল রাতেও অঝোরে কেঁদেছি। কেউ জিজ্ঞেস করার নেই আমি খেয়েছি কি না। মা বেঁচে থাকতে অন্তত সেই ভরসাটুকু ছিল। এখন নিজের বাড়িটাকে শ্মশানের মতো মনে হয়।” প্রিয়জনহীন জীবনে তিনি যে কতটা অসহায়, তা তাঁর প্রতিটি শব্দে ফুটে উঠেছে।

ভালোবাসার ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়েছেন রাখি দুটি বিবাহবিচ্ছেদের পর এখন আর বিয়ের কথা ভাবতেও ভয় পান রাখি। অভিনেত্রীর আক্ষেপ, “আমার আর বিয়ে করার সাহস নেই। যারা আসে, তারা আমাকে স্ত্রী হিসেবে চায় না, বরং নিজেদের উন্নতির সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। জীবনের ওপর থেকে সব বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি।” ব্যক্তিগত জীবনে চরম বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হওয়ার পর থেকেই তিনি এক গভীর একাকীত্বে ভুগছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া পডকাস্টের সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই রাখির প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন অনুরাগীরা। অনেকেরই মন্তব্য, “বাইরে থেকে কঠোর মনে হলেও রাখি আসলে খুবই আবেগপ্রবণ।” তবে বরাবরের মতোই নেটিজেনদের একাংশ একে ‘প্রচার কৌশল’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। যদিও তার তোয়াক্কা না করে অনেকেই রাখিকে ভালোবাসা ও সমর্থনে ভরিয়ে দিচ্ছেন।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Naga Universology (@_naga_universology)

ব্যক্তিগত জীবনের চড়াই-উতরাই উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে রিতেশ সিংয়ের সঙ্গে প্রথম বিয়ে এবং ২০২২ সালে সেই বিচ্ছেদ। এরপর একই বছর আদিল খান দুররানিকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে করলেও, সেই সম্পর্কও এক বছরের মধ্যে তিক্ততায় শেষ হয়। একের পর এক বিচ্ছেদ এবং মায়ের মৃত্যু—সব মিলিয়ে জীবনের কঠিনতম সময় পার করছেন রাখি সাওয়ান্ত।

ক্যামেরার পিছনের এই রাখি সাওয়ান্ত কি সত্যিই নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারবেন? নাকি এই একাকীত্বই এখন তাঁর স্থায়ী সঙ্গী? তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।