তীব্র দাবদাহে চিড়িয়াখানায় হাঁসফাঁস দশা! হাতিদের স্বস্তি দিতে কী কী বদল আনল কর্তৃপক্ষ?

দেশের অধিকাংশ রাজ্যে এখন তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি। ৪৩-৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছুঁয়ে ফেলেছে পারদ। শুধু মানুষ নয়, এই তীব্র দাবদাহে রীতিমতো হাঁসফাঁস অবস্থা চিড়িয়াখানার পশু-পাখিদেরও। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের বিভিন্ন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ পশুপাখিদের স্বাস্থ্য রক্ষায় গ্রহণ করেছে বিশেষ গ্রীষ্মকালীন পদক্ষেপ। বিশেষ করে বিশালাকার হাতিদের স্বস্তি দিতে নজিরবিহীন সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
হাতিদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ও স্নানের ব্যবস্থা: প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচাতে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ হাতিদের জন্য নিয়মিত জল স্প্রে এবং স্নানের ব্যবস্থা করেছে। অনেক জায়গায় হাতিদের দিনে দুবার বা তার বেশি সময় ধরে স্নান করানো হচ্ছে। এছাড়া তাদের খাঁচা বা এনক্লোজারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে শেড বা ত্রিপলের আচ্ছাদন দেওয়া হয়েছে, যাতে সরাসরি প্রখর রোদ গায়ে না লাগে।
খাবারের তালিকায় যে পরিবর্তন: তীব্র গরমে পশুপাখিদের শরীরে জলের ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন রোধ করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। চিড়িয়াখানাগুলোর মেনু চার্টে আনা হয়েছে বিশেষ পরিবর্তন:
-
জলীয় ফলের আধিক্য: হাতিদের স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে জলীয় ফল দেওয়া হচ্ছে। তালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে তরমুজ, শসা এবং অন্যান্য মরসুমি রসালো ফল।
-
ইলেক্ট্রোলাইট ও গ্লুকোজ: জলের ঘাটতি মেটাতে ও শরীর ঠান্ডা রাখতে খাবারে গ্লুকোজ (Glucon-D) এবং প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট ও মাল্টি-ভিটামিন মিক্স দেওয়া হচ্ছে।
-
সতেজ সবুজ ঘাস: তৃষ্ণা মেটাতে এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে হাতিদের সবসময় সতেজ সবুজ ঘাস ও পাতা খাওয়ার জোগান নিশ্চিত করা হচ্ছে।
-
খাদ্যাভ্যাসে বদল: দিনের গরমের তীব্রতা বাড়লে ভারী খাবার দেওয়ার পরিবর্তে জলীয় অংশের পরিমাণ বেশি রয়েছে এমন খাবার দেওয়ার দিকে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের বার্তা: চিড়িয়াখানার পশু চিকিৎসকদের মতে, গরমের হাত থেকে পশুদের বাঁচাতে পরিবেশ শীতল রাখা ও পর্যাপ্ত জলের জোগানই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাঘ, সিংহ বা ভালুকের মতো প্রাণীদের জন্য কুলার ও ফগার সিস্টেম বসানো হয়েছে। হাতিদের ক্ষেত্রে এনক্লোজারের চারপাশে জল ছিটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে মাটি সবসময় ঠান্ডা থাকে।
দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের এই সময়ে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পশুদের স্বাস্থ্যের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে, যাতে এই তীব্র গরমে কোনো প্রাণীই হিট স্ট্রোকের শিকার না হয়।