‘আশা নিয়ে এসেছি’, ৮১ বছরের বৃদ্ধ থেকে চাকরিপ্রার্থী—মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে মানুষের ঢল!

শপথ নেওয়ার পর দ্বিতীয় দিনেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’ সাক্ষী থাকল এক অন্যরকম দৃশ্যের। কোচবিহার থেকে ভবানীপুর—রাজ্যের প্রতিটি কোণ থেকে আসা সাধারণ মানুষের ভিড়ে সোমবার সরগরম হয়ে উঠল সল্টলেকের বিজেপি দপ্তর। যেখানে কেবল রাজনৈতিক আলোচনা নয়, বরং মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সমস্যার সুরাহা খুঁজতে মরিয়া মুখ্যমন্ত্রী।
সমস্যার ডায়েরি: কে কী আর্জি জানালেন?
সোমবারের জনতার দরবারে উঠে এল রাজ্যের মানুষের না বলা একরাশ যন্ত্রণা আর অনিশ্চয়তার কথা:
আশ্রয় হারানোর কান্না: ভবানীপুরের বাসিন্দা ৮১ বছরের বৃদ্ধ প্রবীর মুখোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তাঁদের অভিযোগ, ‘জয় কামদার’ এবং ‘সোনা পাপ্পু’ নামের একদল ব্যক্তি তাঁদের মাথার ওপরের ছাদটুকু কেড়ে নিয়েছে। দীর্ঘদিনের বৃদ্ধ দম্পতি এখন হারানো ভিটে ফিরে পেতে নিজের কেন্দ্রের বিধায়ক তথা মুখ্যমন্ত্রীর ওপরই শেষ ভরসা রেখেছেন।
সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন: নার্সিং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুচিত্রা দে জানালেন, অনাথদের জন্য নির্ধারিত চাকরির সংরক্ষণ তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ থাকলেও চাকরি না পাওয়ার হতাশায় তিনি আজ মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ।
যোগ্যদের হাহাকার: ২০১৬ সালের ২৬ হাজার বঞ্চিত চাকরিহারা শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সুমন বিশ্বাস দাবি জানালেন, “অন্যায়ের বিচার চাই। যোগ্যতার ভিত্তিতে অবিলম্বে চাকরি ফেরানো হোক।”
কারিগরি শিক্ষায় নিয়োগের দাবি: ১৫ বছর ধরে নিয়োগহীন কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ী করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন মলয় সিংহ রায়।
মানুষের ভরসার প্রতীক ‘জনতার দরবার’
দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর দুর্নীতির যাঁতাকলে পিষ্ট সাধারণ মানুষ এখন এই ‘জনতার দরবার’-কে কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখছেন না, বরং একে দেখছেন ন্যায়বিচারের মঞ্চ হিসেবে। মুখ্যমন্ত্রী প্রতিটি আবেদনকারীর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলছেন, শুনছেন তাঁদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিযোগের পাহাড়।