ইরান যুদ্ধের আঁচ কন্ডোমের বাজারে! দাম বাড়তে পারে ‘ম্যানফোর্স’-এর, কারণ জানলে অবাক হবেন

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি এবার শুধু পেট্রোল-ডিজেলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল না। ইরান-মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেল ছাড়ানোয়, সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষার সামগ্রী ‘কন্ডোম’-এর বাজারেও। ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় কন্ডোম ব্র্যান্ড ‘ম্যানফোর্স’-এর নির্মাতা সংস্থা ম্যানকাইন্ড ফার্মা ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে।
তেলের সঙ্গে কন্ডোমের সম্পর্ক কী? অনেকের কাছেই বিষয়টি আশ্চর্যজনক মনে হতে পারে যে, প্রাকৃতিক রাবার দিয়ে তৈরি কন্ডোমের সঙ্গে তেলের কী সম্পর্ক? বিশেষজ্ঞদের মতে, কন্ডোম তৈরিতে কেবল ল্যাটেক্সই ব্যবহৃত হয় না, এর সাথে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ, সিলিকন অয়েল, লুব্রিক্যান্ট এবং মোড়কজাতকরণের (প্যাকেজিং) উপাদানে প্রচুর পরিমাণে পেট্রোলিয়াম-নির্ভর উপকরণের প্রয়োজন হয়। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে এই সব কাঁচামাল এবং পরিবহণ খরচ বহুগুণ বেড়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে।
কী বলছে উৎপাদনকারী সংস্থা? ম্যানকাইন্ড ফার্মার সিইও শীতল অরোরা জানিয়েছেন, বর্তমানের জন্য পর্যাপ্ত স্টক রয়েছে ঠিকই, কিন্তু ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন খরচ যে হারে বাড়বে, তার দায়ভার শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের ওপর পড়তে পারে। বর্তমানে ১০টি কন্ডোমের প্যাকেটের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকার আশেপাশে থাকলেও, পরিস্থিতি জটিল হলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না সংস্থাটি। বিশ্বের বৃহত্তম কন্ডোম প্রস্তুতকারী সংস্থা মালয়েশিয়ার ‘ক্যারেক্স’ (Karex)-ও এরই মধ্যে কন্ডোমের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।
জনস্বাস্থ্যের ওপর উদ্বেগের ছায়া ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় কন্ডোম উৎপাদনকারী ও ব্যবহারকারী দেশ। বছরে প্রায় ৪০০ কোটির বেশি কন্ডোম এখানে উৎপাদিত হয়। চিকিৎসকদের একাংশের মতে, কন্ডোমের দাম সামান্য বাড়লেও নিম্নবিত্ত ও গরিব মানুষের মধ্যে এর নিয়মিত ব্যবহারের হার কমে যেতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবাণী, দাম বাড়লে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ থেকে শুরু করে যৌনরোগ (STD) ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম চিন্তার বিষয়।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত যদি বিশ্ব অর্থনীতিতে এই অস্থিরতা বজায় রাখে, তবে সাধারণ মানুষের পকেটে যে নতুন চাপ আসতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার সরকার বা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নেয়।