১২ দিন পর শেষকৃত্য সম্পন্ন ত্বিষা শর্মার,দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে দিল্লি এইমস-এর বিশেষজ্ঞ দল

প্রাক্তন মডেল ত্বিষা শর্মার (৩২) রহস্যমৃত্যুর ১২ দিন পর অবশেষে রবিবার বিকেল ৫টা নাগাদ ভোপালের ভদ্রভদা ঘাটে সম্পন্ন হলো তাঁর শেষকৃত্য। পণের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় ‘প্রভাবশালীদের’ হস্তক্ষেপের অভিযোগে উত্তাল হয়েছিল দেশ। শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের নির্দেশে দিল্লি এইমস (AIIMS)-এর চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ দলের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের পরই তাঁর মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ময়নাতদন্তে কেন দ্বিতীয়বার? ১২ মে শ্বশুরবাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার হয় ত্বিষার নিথর দেহ। ত্বিষার বাপের বাড়ির অভিযোগ ছিল, স্বামী সমর্থ সিং একজন আইনজীবী এবং শাশুড়ি গিরিবালা দেবী প্রাক্তন জেলা বিচারক হওয়ায় তাঁরা স্থানীয় স্তরে প্রথম ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছেন। এই অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেই মৃতের পরিবার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের জবলপুর বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়। আদালতের কড়া নির্দেশেই দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। শেষকৃত্যের সময় শাশুড়ি গিরিবালা দেবীকে সেখানে উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয়নি বলেই পরিবার সূত্রে খবর।

পুলিশি হেফাজতে স্বামী, নজর সুপ্রিম কোর্টের ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন অভিযুক্ত স্বামী সমর্থ সিং। গত শুক্রবার জবলপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর তাঁকে ২৩ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। তবে এই অস্বাভাবিক মৃত্যুতে কেবল স্থানীয় স্তরে তদন্তই নয়, পদ্ধতিগত ত্রুটি ও প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠায় নড়েচড়ে বসেছে শীর্ষ আদালতও।

সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনায় ‘সুয়োমোটো’ (স্বতঃপ্রণোদিত) মামলা দায়ের করেছে। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রাক্তন মডেলের অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। শেষ বিদায় জানানোর সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন ত্বিষার বাবা-মা। এখন দেখার বিষয়, দিল্লি এইমস-এর ফরেনসিক রিপোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের শুনানির পর তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।