‘রাম-বাম’ লড়াইয়েই কি কুপোকাত তৃণমূল? ফলতার ফলাফলে নতুন সমীকরণ!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ফলাফল এক চাঞ্চল্যকর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদা তৃণমূলের অপ্রতিদ্বন্দ্বী এই কেন্দ্রে শাসকদলের চতুর্থ স্থানে নেমে আসা এবং বিজেপির বিশাল জয়ের নেপথ্যে সংখ্যালঘু বা মুসলিম ভোটের মেরুকরণই প্রধান ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
‘রাম-বাম’ সমীকরণ ও মুসলিম ভোটের চালচিত্র:
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোটারের বাস। এতদিন এই ভোটব্যাংককে নিজেদের সুরক্ষিত দুর্গ বলেই মনে করত তৃণমূল। কিন্তু এবারের পুনর্নির্বাচনের তথ্য বলছে, এই ভোটব্যাংকে ফাটল ধরেছে। একাংশ সংখ্যালঘু ভোটার এবার প্রথাগত তৃণমূলের ওপর আস্থা না রেখে সিপিএম-এর দিকে ঝুঁকেছে, অন্যদিকে আরেকটি বড় অংশের ভোট বিজেপির দিকে সরে যাওয়ার ফলেই শাসকদল চতুর্থ স্থানে নেমে গিয়েছে। অর্থাৎ, মুসলিম ভোটের এই বিভাজনই তৃণমূলের সাম্রাজ্যে ধস নামানোর মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূলের ভরাডুবির নেপথ্যে:
প্রার্থী সরে দাঁড়ানো: ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান (যিনি স্থানীয়ভাবে ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত) ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন। যদিও ইভিএমে তাঁর নাম থাকায় তিনি সামান্য কিছু ভোট পেয়েছেন, তবে দলীয় সংগঠন যে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল, তা স্পষ্ট।
সংখ্যালঘু ভোটের অভিমুখ পরিবর্তন: সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি বড় অংশ তৃণমূলের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ বা তাদের নীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এর ফলে বিজেপি যেমন বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছে, তেমনই সিপিএম দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করেছে।
বিকল্প হিসেবে বামপন্থার উত্থান: দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় থাকার পর বামপন্থীরা ফের সংখ্যালঘু ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে শুরু করেছে, যা ফলতার ফলাফলে স্পষ্ট।
রাজনৈতিক ফলাফল:
বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা ২০৮-এ নিয়ে গিয়েছেন। অন্যদিকে, সিপিএম-এর শম্ভুনাথ কুর্মী দ্বিতীয় স্থানে থেকে প্রমাণ করেছেন যে, রাজ্যে ‘রাম-বাম’ উভয় শক্তিরই প্রভাব বাড়ছে, যা আগামী দিনে তৃণমূলের জন্য চরম চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।
রাজনৈতিক মহলে এখন চর্চা শুরু হয়েছে—ফলতার এই ফলাফল কি রাজ্যের অন্যান্য সংখ্যালঘু প্রভাবিত কেন্দ্রগুলোতেও একই ট্রেন্ড তৈরি করবে? তৃণমূল কি তাদের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারবে, নাকি এই ‘বাম-রাম’ সমীকরণই রাজ্যের আগামী রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে?