কোরবানি নিয়ে বিস্ফোরক সিপিআই(এম) বিধায়ক! ‘আইনি জটিলতা এড়াতে বুদ্ধির পরিচয় দিন’

বকরি ইদকে সামনে রেখে কোরবানি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ধর্মীয় ভাবাবেগ এবং আইনি জটিলতা—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন এক সিপিআই(এম) বিধায়ক। তাঁর মতে, বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের আইনি বিবাদ বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের বিশেষ ‘বুদ্ধি’ ও সতর্কতার পরিচয় দেওয়া প্রয়োজন।
কী বলেছেন বিধায়ক?
নিজের নির্বাচনী এলাকায় এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক বলেন, “বকরি ইদ অত্যন্ত পবিত্র উৎসব। কোরবানির বিষয়টি নিয়ে যেন কোনোভাবেই আইন-শৃঙ্খলার অবনতি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। অনেক সময় অকারণে ছোট ঘটনাকে বড় করে আইনি জটিলতা তৈরি করা হয়। তাই উৎসব পালন করতে গিয়ে এমন কোনো কাজ করবেন না যা অন্যের চোখে আঙুল দিয়ে খোঁচা দেয় বা আইনি ফাঁদে পড়ার অবকাশ তৈরি করে।”
কেন এই মন্তব্য?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন রাজ্যে কোরবানির সময় গবাদি পশু পরিবহন ও জবাই নিয়ে এক শ্রেণির সংগঠনের তৎপরতা বেড়েছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি টানাপোড়েন বা এলাকায় অশান্তি এড়াতেই সম্ভবত বিধায়ক এই ‘সতর্কবার্তার’ পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি মূলত সম্প্রদায়ের মানুষদের আইন মেনে, গোপনীয়তা রক্ষা করে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসব পালনের বার্তা দিয়েছেন, যাতে কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক মেরুকরণকে মদত দেওয়া না হয়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
বিধায়কের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের একাংশের মতে, নিজের ভোটব্যাংক ও এলাকা শান্ত রাখতে বিধায়ক আগাম সাবধানতা অবলম্বন করছেন। অন্যদিকে, শুভানুধ্যায়ীদের দাবি, তিনি আসলে শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার স্বার্থেই দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে এই পরামর্শ দিয়েছেন।
এই মন্তব্য নিয়ে এলাকায় বিতর্ক থাকলেও, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, ধর্মীয় রীতি পালনের ক্ষেত্রে যেন সরকারি আইন এবং পরিবেশগত বিধিনিষেধের খেয়াল রাখা হয়। বকরি ইদকে কেন্দ্র করে কোনো রকম উস্কানিমূলক কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না বলেও পুলিশি সতর্কবার্তা রয়েছে।