দার্জিলিং ভ্রমণ এখন ‘যানজট’ আতঙ্ক! টাইগার হিল নিয়ে কঠোর নির্দেশিকা প্রশাসনের

তীব্র দাবদাহ থেকে মুক্তি পেতে দার্জিলিঙে এখন পর্যটকদের ঢল। কিন্তু এই রেকর্ড ভিড়ই এখন পাহাড়ের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোনাদা থেকে ঘুম হয়ে দার্জিলিং শহর—সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অবিরাম যানজটে নাজেহাল পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গিন যে, সম্প্রতি গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) চিফ অনীত থাপার কনভয়ও দেড় ঘণ্টা আটকে ছিল ট্রাফিক জ্যামে।
পর্যটন ব্যবসায় বড় ধাক্কা:
টানা এই যানজটের আতঙ্কে এখন দার্জিলিং ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করছেন বহু পর্যটক। পাহাড়ের পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই অবস্থা চলতে থাকলে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে পর্যটন শিল্পে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক:
যানজট সমস্যার স্থায়ী বিহিত খুঁজতে উদ্যোগী হয়েছে জেলা প্রশাসন। দার্জিলিংয়ের মহকুমা শাসক বনমালী রায় সোমবার একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। এই বৈঠকে হিমালয়ান ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন কমিটি, গোর্খা একতা চালক সংগঠন সহ বিভিন্ন গাড়িচালক সংগঠনের প্রতিনিধি, পরিবহণ দফতর এবং পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। যান নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হবে এই বৈঠকে।
টাইগার হিল দর্শনে কঠোর নতুন নিয়ম:
যানজট নিয়ন্ত্রণে টাইগার হিলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে শুক্রবার থেকে কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে দার্জিলিং সদর ট্রাফিক পুলিশ। নিয়মগুলি হলো:
ভোর ৪:৩০-এর ডেডলাইন: এখন থেকে টাইগার হিলে সূর্যোদয় দেখার জন্য পর্যটকবাহী গাড়িগুলিকে বাধ্যতামূলকভাবে ভোর ৪টে ৩০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছতে হবে।
প্রবেশ নিষেধ: কোনো গাড়ি যদি এই সময়ের পরে পৌঁছায়, তবে তাদের টাইগার হিলের রাস্তায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
কুপন থাকলেও ছাড় নেই: পুলিশের ইস্যু করা বৈধ কুপন থাকলেও ডেডলাইন পার হয়ে গেলে কোনো গাড়িকে আর ছাড় দেওয়া হবে না।
আগে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না থাকায় পর্যটকবাহী গাড়িগুলি অনেক সময় ভোর ৫টা ৩০ মিনিট বা তার পরেও টাইগার হিলে পৌঁছাত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যটন ও যান চলাচল সুশৃঙ্খল করতেই প্রশাসন এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। পাহাড়ের এই সংকটময় মুহূর্তে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত পর্যটকদের ভ্রমণের পরিকল্পনা পরিবর্তনে কতটা সাহায্য করে, সেটাই দেখার বিষয়।