অনুপ্রবেশ রুখতে বড় পদক্ষেপ! পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় তৈরি হবে ‘হোল্ডিং সেন্টার’

পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ রোধ এবং অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য প্রশাসন। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের পক্ষ থেকে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ (Holding Centres) বা ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক নির্দেশনায় কী বলা হয়েছে?
রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতা পুলিশের কমিশনার, এবং প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকদের কাছে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গাইডলাইন মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
নির্দেশনায় মূলত কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে:
হোল্ডিং সেন্টারের কাজ: যে সকল বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা নাগরিক অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করায় ধৃত হয়েছেন, তাঁদের আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগের সময়টুকু এই হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে রাখা হবে।
তথ্যের আদান-প্রদান: ধৃত ব্যক্তিদের যাবতীয় তথ্য বিদেশ মন্ত্রকের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যাতে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দেশের (বাংলাদেশ বা মায়ানমার) দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের নাগরিকত্ব যাচাই করা সম্ভব হয়।
খরচের দায়ভার: জেলাগুলিতে এই হোল্ডিং সেন্টার তৈরির প্রাথমিক খরচ সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে বহন করতে হবে। পরবর্তীতে তা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া, ধৃত ব্যক্তিদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) হাতে তুলে দেওয়ার আগের যাবতীয় প্রশাসনিক খরচও রাজ্যকেই প্রাথমিক পর্যায়ে বহন করতে হবে।
সরকারের লক্ষ্য:
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, রাজ্যে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ (শনাক্ত করা, নথি থেকে বাদ দেওয়া এবং বহিষ্কার করা) নীতি কার্যকর করা হবে। তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর আওতায় পড়ছেন, তাঁরা সুরক্ষিত। শুধুমাত্র যারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং সিএএ-র সুরক্ষাবলয়ের বাইরে, তাঁদের বিরুদ্ধেই এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কাজে পুলিশ বাহিনীকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে রাজ্যের নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের এটি একটি বড় মাপের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।