ফলতায় গেরুয়া ঝড়! লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়ী বিজেপি, চতুর্থ স্থানে তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নজিরবিহীন পালাবদল। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হলো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএম প্রার্থীকে ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এই জয়ের ফলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৮-এ।

ফলাফলের পরিসংখ্যান:

বিজেপি (দেবাংশু পণ্ডা): ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৬৬ ভোট (বিজয়ী)।

সিপিএম (শম্ভুনাথ কুর্মি): ৪০ হাজার ৬৪৫ ভোট (দ্বিতীয়)।

কংগ্রেস (আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা): ১০ হাজার ৮৪ ভোট (তৃতীয়)।

তৃণমূল কংগ্রেস (জাহাঙ্গির খান): ৭ হাজার ৭৮৩ ভোট (চতুর্থ)।

কেন এই ফল তাৎপর্যপূর্ণ?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের অত্যন্ত শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ফলতায় এই পরাজয় শাসকদলের জন্য বড় ধাক্কা। লোকসভা নির্বাচনে যে আসনে তৃণমূল বিপুল লিড পেয়েছিল, সেখানে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তাদের চতুর্থ স্থানে নেমে যাওয়া এবং প্রার্থীর জামানত জব্দ হওয়া ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রার্থী জাহাঙ্গির খান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও, ইভিএমে তাঁর নামে নাম থাকায় তিনি পেয়েছেন ৭,৭৮৩ ভোট।

কেন হয়েছিল পুনর্নির্বাচন?
গত ২৯ এপ্রিল সাধারণ নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলাকালীন বেশ কিছু বুথে ইভিএমে কালি, আলকাতরা এবং কালো টেপ লাগানোর মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন পুরো বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট বাতিল ঘোষণা করে এবং ২১ মে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়।

বিজেপির প্রতিক্রিয়া:
বিজয়ের পর দেবাংশু পণ্ডা বলেন, “এই জয় ফলতাবাসীর। মানুষ ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছেন বলেই বিজেপিকে বিশ্বাস করেছেন।” অন্যদিকে, রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে, তৃণমূলের এই ভরাডুবি কি তবে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তে তাদের সংগঠনের দুর্বলতার ইঙ্গিত?