ভোটের ফলের রেশ কাটার আগেই বিতর্ক! পঞ্চায়েত-পুরসভায় কাজে বাধা নিয়ে অভিযোগ তুললেন মমতা

বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে আলোচনার সুর বেশ চড়া। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের প্রায় তিন সপ্তাহ পরেও হারের যন্ত্রণা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে শাসকদল। এরই মাঝে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিল। নেত্রীর অভিযোগ, শুধুমাত্র নির্বাচনেই যে প্রত্যাশিত ফল মেলেনি তা নয়, প্রশাসনিক স্তরে পুরসভা ও পঞ্চায়েতের কাজেও তাকে এবং তার দলকে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে মনে করছেন যে এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের অন্তত দুশোর বেশি আসন পাওয়ার কথা ছিল। জনকল্যাণমুখী প্রকল্প এবং সাংগঠনিক শক্তিকে পুঁজি করে যে বিশাল জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল তৃণমূল, তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় নেত্রীর কণ্ঠে আক্ষেপ ও ক্ষোভ স্পষ্ট।
কিন্তু নেত্রীর এই অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরে স্থানীয় উন্নয়নের কাজ করতে গিয়ে বাধা পাচ্ছেন তৃণমূল কর্মীরা। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন স্তরে অসহযোগিতার ফলেই উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর গতি শ্লথ হয়ে পড়ছে।
যদিও বিরোধীরা মমতার এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বিরোধী দলগুলোর মতে, প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই তৃণমূল এখন এমন অভিযোগ তুলছে। তবে মমতার এই মন্তব্য যে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে পুরসভা ও পঞ্চায়েত পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে একমত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন দেখার বিষয়, শাসকদলের এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন বা বিরোধীদের তরফে পাল্টা কী প্রতিক্রিয়া আসে।