HPBOSE পরীক্ষার উত্তরপত্রে বড়সড় কারচুপি! ফরেনসিক রিপোর্টে ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য, বড় সিদ্ধান্ত বোর্ডের

হিমাচল প্রদেশ বোর্ড অফ স্কুল এডুকেশন (HPBOSE)-এর দশম শ্রেণির (ম্যাট্রিকুলেশন) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে বড়সড় কারচুপির ঘটনা সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষার উত্তরপত্রে জালিয়াতির বিষয়টি ফরেনসিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় বোর্ড ইতিমধ্যেই ক্ষতিপূরণমূলক নম্বর প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত:
বিলাসপুর জেলার ঝান্ডুট্টার একটি সরকারি সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে এই কারচুপির অভিযোগ ওঠে। আর্টস বিভাগের মোট ৯ জন পরীক্ষার্থী বোর্ডের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান যে, তাদের উত্তরপত্রের বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) অংশে কারচুপি করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রে মোট ৪০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

তদন্তে যা বেরিয়ে এল:
অভিযোগ পাওয়ার পরই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেয় বোর্ড। শিক্ষার্থীদের বোর্ডের সদর দপ্তরে ডেকে বিষয় বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে উত্তরপত্র যাচাই করা হয়। অধিকতর স্বচ্ছতার জন্য খাতাগুলো ধর্মশালার আঞ্চলিক ফরেনসিক বিজ্ঞান পরীক্ষাগারে (RFSL) পাঠানো হয়। ফরেনসিক প্রতিবেদনে জালিয়াতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।

বোর্ড গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটি আরও একটি গুরুতর অসঙ্গতি উদ্ঘাটন করেছে। তারা দেখেছে যে, উত্তরপত্র বহনকারী ‘টেম্পার-প্রুফ’ খামগুলোর ক্রমিক নম্বর প্যাকিং মেমোর নম্বরের সঙ্গে মিলছে না। এতেই স্পষ্ট হয় যে, পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে উত্তরপত্র পরিবহনের মাঝপথেই কোনোভাবে খামগুলো অদলবদল করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় বোর্ডের সিদ্ধান্ত:
বোর্ড চেয়ারম্যান রাজেশ শর্মা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ঘটনার পেছনে শিক্ষার্থীদের কোনো দায় নেই। তাদের শিক্ষাজীবন যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য বোর্ড নিয়মানুযায়ী সংশ্লিষ্ট ভুল প্রশ্নগুলোর বিপরীতে ক্ষতিপূরণমূলক নম্বর (Compensatory Marks) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। তবে সরকারি পরীক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে খাম অদলবদলের মতো ঘটনাটি নিয়ে রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বোর্ড কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।