প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য! অজয় রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, পাল্টা ‘এআই ষড়যন্ত্রের’ দাবি কংগ্রেস সভাপতির

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে উত্তর প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি অজয় রায়ের বিরুদ্ধে আইনি সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। মহোবা ও বারাণসীতে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে একাধিক মামলা। তবে এই চাপের মুখেও দমে না গিয়ে অজয় রায় উল্টো বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ তুলেছেন।
আইনি জটিলতায় অজয় রায়:
অভিযোগ উঠেছে, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তিনি অশালীন মন্তব্য করেছেন। আরিয়ান পান্ডিয়া নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল গভীর রাতে চৌক থানায় রায়ের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করা হয়। দশাশ্বমেধ থানার এসিপি অতুল অঞ্জন ত্রিপাঠি জানিয়েছেন, সাইবার সেলের সহায়তায় ভিডিওটির সত্যতা ও এর উৎস নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
পাল্টা আক্রমণে অজয় রায়:
সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অজয় রায়ের দাবি, যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি একে বিজেপির একটি গভীর ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কংগ্রেস নেতার কথায়, “আমার বিরুদ্ধে একশটি মামলা হলেও আমি অবিচার এবং নিপীড়িতদের অধিকারের পক্ষে আওয়াজ তোলা থেকে বিরত থাকব না।” তিনি দাবি করেন, মহোবার এক ছাত্রীর ওপর হওয়া পাশবিক নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মহোবার ঘটনা ও সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ:
অজয় রায় বলেন, মহোবায় এক তরুণীকে দীর্ঘ ১৬ দিন ধরে জিম্মি করে মাদক ইনজেকশন দিয়ে ও অকথ্য নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানানোই ছিল তাঁর অপরাধ। সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে তিনি দাবি তুলেছেন:
কঠোর শাস্তি: অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে বিচার এবং মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা হোক।
ক্ষতিপূরণ: মৃত ছাত্রীর পরিবারকে অবিলম্বে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
জবাবদিহিতা: নারী সুরক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকারের স্বচ্ছতা ও অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের জবাবদিহি দাবি করেছেন তিনি।
কংগ্রেসের অবস্থান:
কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারটি ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত কংগ্রেস তাদের পাশে থাকবে। তিনি সরকারকেও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অপরাধীদের প্রতি নমনীয়তা সমাজকে বিপদের মুখে ঠেলে দেবে।
বর্তমানে পুরো বিষয়টি আইনি তদন্তের অধীন। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর অবমাননার অভিযোগ, অন্যদিকে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অভিযোগ—এই বিতর্ক উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে।