প্রেমের আড়ালে সাইবার ক্রাইম! প্রেমিক ও প্রেমিকার যুগলবন্দিতে লক্ষ লক্ষ টাকার জালিয়াতি, গ্রেপ্তার ২

ডিজিটাল প্রতারণার এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর মডেল সামনে আনল পাটনা পুলিশ। সহজ কিস্তিতে ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক প্রেমিক-প্রেমিকা জুটিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের জালে ধরা পড়েছে তাদের আরও এক সহযোগী।
কীভাবে চলত প্রতারণা?
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের মূল হোতা সঞ্জয় কুমার মাত্র দশম শ্রেণি পাশ হলেও তার বুদ্ধিমত্তা ছিল ভয়ংকর। সে তার প্রেমিকার নির্দেশনায় পুরো সাইবার নেটওয়ার্কটি নিয়ন্ত্রণ করত। তারা বিভিন্ন ব্যক্তিকে সহজে ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করত। এরপর ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ওইসব ব্যক্তির নামে ‘জিরো ব্যালেন্স’ অ্যাকাউন্ট খোলা হতো। প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া কালো টাকা সেই অ্যাকাউন্টগুলোতে জমা করে তা পরে তুলে নিত এই অপরাধীরা।
কীভাবে এল পুলিশের হাতে?
প্রতারণা চক্রের এই পর্দাফাঁস হয় আদিত্য কুমার নামে এক যুবকের মাধ্যমে। অভিযুক্তরা তাকে ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে বাধ্য করেছিল। পরবর্তীতে সেই অ্যাকাউন্টে তিন দফায় ৬৬ লক্ষ টাকা জমা পড়লে আদিত্যর সন্দেহ হয় এবং সে দ্রুত সাইবার পুলিশকে বিষয়টি জানায়। এরপরই পুলিশ তদন্তে নেমে জাকারিয়াপুর এলাকা থেকে সঞ্জয় ও তার সহযোগী অভিষেক কুমারকে গ্রেপ্তার করে।
উদ্ধার ও তদন্ত:
অভিযুক্তদের কাছ থেকে পুলিশ ১১টি মোবাইল ফোন, ১১টি এটিএম কার্ড ও দুটি চেক বই উদ্ধার করেছে। সাইবার ডিএসপি নীতীশ চন্দ্র ধরিয়া জানিয়েছেন:
গত দেড় বছরে এই চক্রটি অন্তত ১ কোটি টাকার বেশি জালিয়াতি করেছে।
বিহারসহ অন্যান্য রাজ্যেও তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
তদন্তে উঠে আসছে, চক্রের সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তাদেরও কোনো গোপন যোগসাজশ আছে কি না।
বর্তমানে অভিযুক্তদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রেমিকার ভূমিকা এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের ধরতে পুলিশ এখন জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সাইবার জালিয়াতির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পাটনা পুলিশ।