তীব্র গরমে উত্তর প্রদেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়! ৩০,০০০ মেগাওয়াট চাহিদার ভারে ভেঙে পড়ছে পরিকাঠামো?

উত্তর প্রদেশজুড়ে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। দাবদাহে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রাজধানী লখনউ থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম—সর্বত্রই এখন লোডশেডিংয়ের দাপট। এই সংকটকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও।

পাল্টা-পাল্টি রাজনৈতিক দায়:
বিদ্যুৎ সংকটকে ‘বিপর্যয়’ বলে বিঁধতে ছাড়েননি সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। পাল্টা জবাবে রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী পরিসংখ্যানে তুলে ধরেন বর্তমান চিত্র। মন্ত্রীর দাবি, ২০১৭ সালে বিদ্যুতের গড় চাহিদা ছিল ১৩,০০০ মেগাওয়াট, যা বর্তমানে বেড়ে ৩০,০০০ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৮০ লক্ষ থেকে বেড়ে ৩ কোটি ৭০ লক্ষে পৌঁছালেও, উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে ৯,১২০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মূল সংকট কোথায়? উৎপাদন নাকি বিতরণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে বড় সমস্যা এখন ‘ডিস্ট্রিবিউশন’ বা বিতরণ ব্যবস্থা। গত ৯-১০ বছরে বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা দ্বিগুণ হলেও সেই অনুপাতে পরিকাঠামো বাড়েনি। পুরনো তার, ওভারলোডিং এবং সেকেন্ডারি সিস্টেমের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে বর্তমান পরিকাঠামো এই বিপুল চাহিদা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

কর্মী ছাঁটাইয়ের নেতিবাচক প্রভাব:
বিদ্যুৎ কর্পোরেশনের প্রাক্তন কর্মকর্তাদের মতে, এই সংকটের অন্যতম কারণ মাঠ পর্যায়ের জনবল সংকট। উত্তর প্রদেশে প্রায় ৩০,০০০ চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে, যারা মূলত ট্রান্সফরমার মেরামত ও লাইন ফল্ট ঠিক করার কাজে দক্ষ ছিলেন। দক্ষ জনবলের অভাবে ট্রান্সফরমার বিকল হওয়া বা লাইন মেরামতে বিলম্বের হার বেড়েছে। এছাড়া, পরিকল্পনার অভাবে মাঠ পর্যায়ে সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়াকেও এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন অনেকে।

চাহিদা বনাম সরবরাহ:
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুতের চাহিদা ৩০,০০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেলেও পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতায় ৩১,৫০০ মেগাওয়াটের বেশি সঞ্চালন ক্ষমতা নেই। সরকার বিদ্যুৎ কেনার চেষ্টা করলেও তীব্র গরমে দেশজুড়ে চাহিদার কারণে তা যথেষ্ট হচ্ছে না। ফলে পিক আওয়ারে প্রায় ৮৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে, যার মাসুল গুনছেন সাধারণ মানুষ।

বিদ্যুৎমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, কিছু অসাধু কর্মচারী ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, তীব্র এই গরম আর কবে মুক্তি মিলবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট থেকে? সরকার কি পারবে দ্রুত পরিকাঠামো ঢেলে সাজিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক করতে?