“২০১২ সিনেমার মতো বুলডোজার চলছে!”-বেআইনি নির্মাণ ভাঙা নিয়ে রাজ্য সরকারকে তোপ কুণাল ঘোষের

শহরজুড়ে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের চলমান বুলডোজার অভিযানকে ‘অতি উৎসাহে দেখনদারি’ বলে কটাক্ষ করলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। নতুন সরকারের মাত্র ১৫-১৬ দিনের কার্যকালে যেভাবে বুলডোজার দিয়ে একের পর এক বহুতল ভাঙা হচ্ছে, তাকে হলিউডের বিপর্যয়ধর্মী সিনেমা ‘২০১২’-র সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি।

কুণালের নিশানায় নিরপেক্ষতা: প্রশাসনের অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলে কুণাল বলেন, “শহরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিরপেক্ষতার বার্তা দেওয়া সম্ভব নয়। সরকারের যদি সততা থাকে, তবে শহরের অন্যান্য প্রান্তে—বিশেষ করে গঙ্গার ধারের মতো এলাকাগুলোতেও অভিযান চালাক। সেখানে বহু বেআইনি গুদাম ও গোডাউন রয়েছে, বিজেপি সেখানে যাওয়ার সাহস দেখালে তবেই বোঝা যাবে নিরপেক্ষতা।”

সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ: এই অভিযানে সাধারণ মানুষের অসহায়তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুণাল। তাঁর মতে, প্রোমোটাররা আইন ভেঙে নির্মাণ করে ফ্ল্যাট বিক্রি করে চম্পট দিয়েছেন, আর এখন সেই ফ্ল্যাট কিনে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তিনি বলেন, “বেআইনি কিছু থাকলে পুরসভা নিয়ম মেনে ভাঙুক, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু যেভাবে বেছে বেছে কিছু এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে, তাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।”

অতীতের দায়বদ্ধতা ও বর্তমানের রাজনীতি: গত ১৫ বছরে কেন এই নির্মাণ রোখা যায়নি—এই প্রশ্নের জবাবে কুণাল সরাসরি উত্তর না দিলেও দাবি করেন, নতুন সরকার অতি উৎসাহী হয়ে এসব করছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে বর্তমানে যে সব বেআইনি নির্মাণ বা পরিকাঠামোগত ত্রুটি দেখা যাচ্ছে, তার দায় কি বর্তমান সরকারের নেই? সব ক্ষেত্রে কি সরকার ‘ধোয়া তুলসি পাতা’?

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কুণালের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বুলডোজার অভিযানকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আগামী দিনে আরও বাড়তে চলেছে। একদিকে যখন প্রশাসন ‘বেআইনি দখল’ উচ্ছেদে মরিয়া, অন্যদিকে তৃণমূলের এই সুর কার্যত সরকারের উদ্দেশ্য নিয়েই বড়োসড়ো প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।