ত্বিষার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও পণের বলি! বেঙ্গালুরু ও বল্লারি থেকে এল দুই তরুণীর মৃত্যুর খবর

ভোপালের ত্বিশা শর্মা মৃত্যুকাণ্ডের ক্ষত না শুকাতেই ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী নির্যাতনের একের পর এক মর্মান্তিক খবর সামনে আসছে। এবার কর্নাটকের বেঙ্গালুরু ও বল্লারি থেকে দুটি আলাদা ঘটনায় দুই তরুণীর মৃত্যুতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই অভিযোগের তির শ্বশুরবাড়ির দিকে এবং মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে পণের জন্য শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের কথা।

বেঙ্গালুরুতে পুলিশ কনস্টেবলের স্ত্রীর মৃত্যু:
বেঙ্গালুরুর মারাঠাহল্লির এইচএএল থানার পুলিশ কনস্টেবল রাজেশ আরাধ্যের স্ত্রী ২৬ বছর বয়সী লক্ষ্মী প্রিয়ার মৃত্যু ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য। ২০২৩ সালের মে মাসে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই রাজেশ এবং তাঁর বাবা-মা লক্ষ্মীর ওপর ক্রমাগত অত্যাচার চালাতেন। তাঁদের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।

মৃত্যুর কয়েক মুহূর্ত আগে নিজের মোবাইলের পাসওয়ার্ড ছোট বোন জয়শ্রীকে হোয়াটসঅ্যাপ করেছিলেন লক্ষ্মী। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবার খবর পায়, তিনি আর নেই। এই পাসওয়ার্ড শেয়ার করাটাকেই মৃত্যুর আগে লক্ষ্মীর ‘শেষ বার্তা’ হিসেবে দেখছে পরিবার। ঘটনার পর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং পণনিষেধ আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

বল্লারিতে প্রেম করে বিয়ে, শেষে আত্মঘাতী ঐশ্বর্যা:
অন্যদিকে, বল্লারি জেলার কাম্পলিতে ২৪ বছর বয়সী ঐশ্বর্যা নামে এক তরুণীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রেম করে বিয়ে করলেও, বিয়ের দেড় বছরের মাথায় পণের চাপে এবং স্বামীর মানসিক নির্যাতনে তিনি বাধ্য হয়ে বাপের বাড়ি ফিরে আসেন। গত ১৭ মে বাপের বাড়িতেই নিজের ঘরে সিলিং ফ্যান থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃত্যুকালে ঐশ্বর্যা লিখে যাওয়া সুইসাইড নোটে স্বামী প্রদীপ কুমারের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন ও পণের চাহিদার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে গেছেন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে পশুচিকিৎসক স্বামী প্রদীপ কুমারকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বিচার চেয়ে সরব পরিবার:
একটি ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশকর্মী এবং অন্যটিতে পশুচিকিৎসক—দুই উচ্চশিক্ষিত পরিবারের বিরুদ্ধে পণের অভিযোগ ওঠায় সমাজ সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠছে। কেন আজও পণপ্রথা বন্ধের আইন থাকা সত্ত্বেও শিক্ষিত সমাজ এই কুপ্রথার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে? তদন্তকারীদের দাবি, ত্বিষা শর্মা কাণ্ডের মতো এই ঘটনাগুলোকেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

সমাজের এই অন্ধকার দিক এবং নারীর ওপর ধারাবাহিক অত্যাচারের ঘটনাগুলো আবারো জনমানসে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। তদন্তকারী দল জানিয়েছে, দ্রুত চার্জশিট জমা দিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।