বিশেষ: শুভ কাজে যাওয়ার আগে কোন পা প্রথম বাড়াবেন? কি বলেছেন প্রাচীন মুনি-ঋষিরা?

গুরুত্বপূর্ণ বা শুভ কাজের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বেরনোর সময় আমরা অনেকেই ইষ্টদেবতাকে স্মরণ করি কিংবা দই-মিষ্টি মুখে দিই। কিন্তু শাস্ত্র বলছে, কাজের সাফল্যের পেছনে রয়েছে আরও এক গভীর বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক রহস্য—তা হলো ‘স্বর বিজ্ঞান’। আমাদের শরীরের শক্তি বা এনার্জি কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং যাত্রার শুরুতে কোন পা ফেলা উচিত, তা নিয়েই প্রাচীন মুনি-ঋষিরা রেখে গিয়েছেন মূল্যবান নির্দেশিকা।
স্বর বিজ্ঞান ও নাড়ির রহস্য: যোগ শাস্ত্রে আমাদের শরীরের তিনটি প্রধান নাড়ির উল্লেখ রয়েছে—ইড়া, পিঙ্গলা এবং সুষুম্না। শরীরের বাম দিকের শ্বাসপ্রবাহ নিয়ন্ত্রিত হয় ‘ইড়া নাড়ি’ (চন্দ্র শক্তি) দ্বারা, যা মনকে শান্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ রাখে। অন্যদিকে, ডান দিকের শ্বাসপ্রবাহ নিয়ন্ত্রিত হয় ‘পিঙ্গলা নাড়ি’ (সূর্য শক্তি) দ্বারা, যা আমাদের কর্মতৎপর ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
সাফল্যের সঠিক নিয়ম: বাস্তু ও স্বর শাস্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী:
-
বাম নাক দিয়ে শ্বাস চললে (ইড়া নাড়ি): ঘর থেকে বেরনোর সময় বাম পা আগে ফেলুন।
-
ডান নাক দিয়ে শ্বাস চললে (পিঙ্গলা নাড়ি): ডান পা আগে বাইরে রাখুন। প্রাচীন এই বিধান মেনে চললে শরীরে ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয় এবং কাজে বাধা বিপত্তি কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। একইভাবে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময়ও নিজের সক্রিয় স্বর বা শ্বাস পরীক্ষা করে সেই অনুযায়ী পা নামানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কীভাবে পরীক্ষা করবেন? আপনার কোন স্বর বা নাড়ি সক্রিয় আছে, তা পরীক্ষা করা খুবই সহজ। নাকের নিচে আঙুল বা হাত রেখে জোরে শ্বাস ছাড়লেই বোঝা যায়, কোন নাসারন্ধ্র দিয়ে বাতাস বেশি বের হচ্ছে। যেদিক দিয়ে শ্বাস বেশি বইছে, সেই দিকেই আপনার শরীরের ওই মুহূর্তের শক্তি প্রবহমান।
কেন মানবেন এই নিয়ম? আমাদের শরীরের শ্বাসের এই প্রবাহ প্রতি ৬০ থেকে ৯০ মিনিট অন্তর পরিবর্তিত হয়। তাই যে কোনো বড় ইন্টারভিউ, বাণিজ্যিক বৈঠক বা দূরযাত্রার আগে মাত্র কয়েক সেকেন্ড থমকে দাঁড়িয়ে নিজের শ্বাস পরীক্ষা করে নিলে মানসিক স্থিতি ও শারীরিক এনার্জি সঠিক দিশা পায়। যোগ বিজ্ঞান অনুযায়ী, সঠিক স্বর চিনে পা বাড়ালে জীবনের প্রতিটি পদে সাফল্যের ছোঁয়া পাওয়া সম্ভব।