‘টাকার বিনিময়ে বেআইনি নির্মাণ, ছাড় নয় কাউকে!’ কসবায় অভিযানে গিয়ে কড়া বার্তা পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের

শহরে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ফের বড়সড় অভিযানে নামল কলকাতা পুরসভা। রবিবার ছুটির সকালেই শহরের একাধিক এলাকায়—বিশেষ করে বেলেঘাটা, তিলজলা ও কসবায়—বুলডোজার নিয়ে হাজির হয় পুরসভার ডেমোলিশন টিম। অভিযানে নেতৃত্ব দিতে খোদ কসবার ঘটনাস্থলে হাজির হন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

অভিযানের মূল কেন্দ্রবিন্দু
রবিবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বুলডোজার চালানো হয়েছে:

কসবা: এখানে বোসপুকুর এলাকায় অবৈধ বহুতল ভাঙার কাজ চলছে। অভিযোগ, এই নির্মাণের সাথে জমি কেলেঙ্কারিতে ধৃত ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-র যোগ রয়েছে।

বেলেঘাটা: ইস্ট কুরিয়া রোডে একটি নির্মীয়মাণ বাড়ি ভাঙা হয়েছে, যা অনুমোদিত নিয়ম না মেনেই তৈরি করা হচ্ছিল।

তিলজলা: সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই প্রশাসন এই এলাকায় কড়া নজর রেখেছে। জিজে খান রোডে অবৈধভাবে নির্মিত সাত তলা বাড়ির একটি অংশ ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।

পুরমন্ত্রীর কড়া বার্তা
কসবায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, গত সরকারের আমলে টাকার বিনিময়ে শহরে বহু বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সোনা পাপ্পু বা রাজু নস্করের মতো অভিযুক্তদের বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হবে। কেবল নির্মাতারা নন, যাঁরা এই কাজে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

অভিযানের সময় এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, শহরের একাধিক বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনি বিতর্ক
যদিও এই বুলডোজার অভিযান নিয়ে কিছু বিতর্কও দানা বেঁধেছে। সূত্রের খবর, তিলজলার একটি বহুতল ভাঙার ক্ষেত্রে কলকাতা হাইকোর্ট আপাতত স্থিতাবস্থা বা ‘স্ট্যাটাস কো’ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, আইন মেনে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পুরসভাকে যেকোনো পদক্ষেপ করতে হবে।

এই অভিযান ঘিরে একদিকে যেমন প্রশাসনের কড়া অবস্থানের প্রশংসা করছেন স্থানীয়দের একাংশ, তেমনই আদালতের হস্তক্ষেপ ও আইনি প্রক্রিয়ার দিকেও নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।