মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর, ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চুক্তিতে বড় প্রতিশ্রুতি!

চার দিনের ভারত সফরে এসে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও। ২৩ মে ভারতে পৌঁছে তিনি একদিকে যেমন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন, তেমনই বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বিশাল প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
৫০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য প্রতিশ্রুতি
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে আগামী পাঁচ বছরে ভারত আমেরিকা থেকে বড় পরিমাণে পণ্য ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রুবিও উল্লেখ করেছেন, আমেরিকার কূটনীতিকদের নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই ভারত জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং কৃষিখাতে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মার্কিন পণ্য ক্রয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে। এটি ভারত-মার্কিন বাণিজ্যের ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মোদী-রুবিও বৈঠক: কী কী নিয়ে আলোচনা হলো?
নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে মূলত চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে:
জ্বালানি নিরাপত্তা: বিশেষ করে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দুই নেতা মতবিনিময় করেছেন।
প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা: দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তির আদান-প্রদান এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানানোর আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রুবিও।
ইরান পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালী
মার্কিন দূতাবাসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রুবিও ইরানের সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই হয়তো নতুন কোনো ঘোষণা শোনা যেতে পারে। হরমুজ প্রণালী এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থবিরতা কাটাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা সম্পর্কেও তিনি আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিয়েছেন।
মার্কো রুবিওর এই সফর যে ভারত-মার্কিন কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য। এই বাণিজ্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অর্থনীতিই যে উপকৃত হবে, তা নিয়ে আশাবাদী বিশেষজ্ঞ মহল।