পেট্রোলের দিন শেষ? বিশ্ব পরিবেশ দিবসেই বাজিমাত করতে আসছে মারুতির প্রথম ‘ফ্লেক্স-ফুয়েল’ গাড়ি!

অটোমোবাইল জগতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে হাঁটছে দেশের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা সংস্থা মারুতি সুজুকি। পেট্রোল, সিএনজি, হাইব্রিড এবং ইলেকট্রিকের পর এবার মারুতি আনতে চলেছে তাদের প্রথম ‘ফ্লেক্স-ফুয়েল’ গাড়ি। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি জানিয়েছেন, আগামী ৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এই বিশেষ গাড়িটি বাজারে আনতে চলেছে সংস্থাটি। ভারতের গাড়ি বাজারে এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ নতুন হওয়ায় মারুতির এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বিশেষজ্ঞরা।

ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি আসলে কী?
সহজ কথায়, ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি এমন এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যা সাধারণ পেট্রোলের পাশাপাশি ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানিতেও সমানতালে চলতে সক্ষম। মারুতির এই নতুন মডেলে এমন উন্নত ইঞ্জিন, ফুয়েল সিস্টেম এবং ইগনিশন ব্যবহার করা হয়েছে, যা ই১০০ (১০০ শতাংশ ইথানল) জ্বালানিতে চলার জন্য প্রস্তুত। অর্থাৎ, এই গাড়ি থাকলে পেট্রোলের ওপর নির্ভরশীলতা অনেকাংশে কমে আসবে।

কোন মডেলে আসবে এই প্রযুক্তি?
যদিও মারুতি সুজুকি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মডেলের নাম ঘোষণা করেনি, তবে অটো-মহলে জল্পনা তুঙ্গে। এর আগে জাপান মোবিলিটি শো-তে সংস্থাটি ‘ফ্রঙ্কস’ (Fronx) ফ্লেক্স-ফুয়েল মডেলটি প্রদর্শন করেছিল। আবার বেশ কিছুদিন আগে একটি ওয়াগনআর (WagonR) প্রোটোটাইপও সবার নজর কেড়েছিল, যা ই২০ থেকে ই৮৫ পর্যন্ত ইথানল মিশ্রণে চলতে সক্ষম। ফলে নতুন এই প্রযুক্তিতে জনপ্রিয় কোনো হ্যাচব্যাক বা কমপ্যাক্ট এসইউভি বাজারে আসার সম্ভাবনাই প্রবল।

কেন এই গাড়ি পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী?
ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির বহুমুখী সুবিধার কারণেই সরকার ও গাড়ি নির্মাতারা একে প্রাধান্য দিচ্ছে:

দূষণ হ্রাস: ইথানল ব্যবহারে কার্বন নির্গমন অনেক কম হয়, যা পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে।

জ্বালানি খরচ: দীর্ঘমেয়াদে পেট্রোলের বিকল্প হিসেবে ইথানল ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর চাপ কমবে।

আমদানি নির্ভরতা: দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি ইথানল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং জ্বালানি তেলের ওপর চাপ কমবে।

ভারতের গাড়ি বাজারে এই ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির প্রবেশ শুধুমাত্র একটি নতুন লঞ্চ নয়, বরং এটি দেশের ক্রমবর্ধমান সবুজ জ্বালানি বিপ্লবের এক বড় মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে মারুতির এই ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি’ চাল ভারতের অটোমোবাইল খাতের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।