‘আমিই যিশু’, দাবি করে হোয়াইট হাউসে হামলার ছক! নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে খতম বন্দুকবাজ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দু—হোয়াইট হাউসের ঠিক বাইরে প্রকাশ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল বিশ্বজুড়ে। শনিবার পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ এবং ১৭তম স্ট্রিট নর্থওয়েস্টের কাছে এক বন্দুকধারী আচমকাই গুলি চালাতে শুরু করলে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টদের তৎপরতায় বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন উপস্থিত সকলে। বন্দুকযুদ্ধে হামলাকারী নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
হামলাকারীর পরিচয় ও উদ্দেশ্য:
নিহত হামলাকারীর নাম নাসির বেস্ট (২১)। নিউইয়র্ক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সে নিজেকে ‘যিশু খ্রিস্ট’ বলে দাবি করত এবং মানসিক বিকারগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, নাসির ব্যাগ থেকে রিভলভার বের করে নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হোয়াইট হাউসে জোরপূর্বক প্রবেশের উদ্দেশ্যেই সে এই হামলা চালিয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
যা ঘটেছিল ঘটনাস্থলে:
রিভলভার হাতে অত্যন্ত সুরক্ষিত নিরাপত্তা চৌকির দিকে এগিয়ে আসে ওই যুবক। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে গুলি চালাতে শুরু করে। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে মুহূর্তের মধ্যে পাল্টা জবাব দেন কর্তব্যরত সিক্রেট সার্ভিস কমান্ডোরা। পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত অবস্থায় নাসিরকে জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত পথচারী:
এই গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিরপরাধ পথচারীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে তিনি হামলাকারীর গুলিতে আহত হয়েছেন নাকি পুলিশের পালটা গুলির মুখে পড়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, এই লড়াইয়ে কোনো নিরাপত্তা কর্মী আহত হননি।
তদন্তে প্রশাসন:
ঘটনার পর হোয়াইট হাউস সংলগ্ন এলাকা কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। এই হামলার পেছনে অন্য কোনো বড় ষড়যন্ত্র বা কোনো গোষ্ঠীর মদত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এফবিআই ও সিক্রেট সার্ভিস যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে কী করে একজন সশস্ত্র ব্যক্তি এতটা কাছে পৌঁছাল, তা নিয়েও শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা।