পুরনো চাল ভাতে বাড়ে! তৃণমূলের দুর্দিনে মমতা ভরসা রাখলেন মদন মিত্রেই

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার পর রাজ্য রাজনীতিতে যখন অস্থিরতা তুঙ্গে, ঠিক তখনই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে শুরু হলো ব্যাপক সাংগঠনিক রদবদল। নির্বাচনী বিপর্যয় সামলে দলকে ফের চাঙ্গা করতে এবার দলের ‘পুরনো সৈনিক’ এবং জনপ্রিয় নেতা মদন মিত্রের কাঁধেই বড় দায়িত্ব সঁপে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সদ্য গঠিত ‘দমদম সাংগঠনিক জেলা’-র সভাপতি করা হয়েছে কামারহাটির বিধায়ককে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কঠিন সময়েও কামারহাটি কেন্দ্রটি যেভাবে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন মদন মিত্র, সেই আনুগত্যেরই পুরস্কার পেলেন তিনি।

কেন এই গুরুত্বপূর্ণ রদবদল?
গত পাঁচ বছরে মদন মিত্রের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কম চর্চা হয়নি। একসময়ের দাপুটে মন্ত্রী থাকাকালীন মন্ত্রিত্ব হারানোর পরও দলের প্রতি তাঁর আনুগত্যে বিন্দুমাত্র চিড় ধরেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বারবার নেত্রীর সঙ্গে পুরোনো দিনের ছবি পোস্ট করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, দলের সুদিন বা দুর্দিন—সব সময়েই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী।

কৌশলী চাল তৃণমূলের:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সাংগঠনিক পরিবর্তনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এতদিন ‘বারাকপুর-দমদম’ একটিই সাংগঠনিক জেলা ছিল। কিন্তু এলাকাভিত্তিক সংগঠন আরও মজবুত করতে এবার বারাকপুর ও দমদমকে আলাদা করা হয়েছে। দমদমের দায়িত্ব মদন মিত্রের হাতে দিয়ে নিচুতলার কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব।

মদনের ‘ম্যাজিক’-ই ভরসা:
২০১১ সালে কামারহাটি থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত, নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েও মদন মিত্র নিজের মাটি ছাড়েননি। ২০২১ বা ২০২৬—উত্তর ২৪ পরগনায় বিজেপির ব্যাপক প্রভাবের মুখে দাঁড়িয়েও কামারহাটিতে ঘাসফুল ফুটিয়ে রাখা মদন মিত্রের সাংগঠনিক দক্ষতা সর্বজনবিদিত। নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে তাঁর অটুট জনসংযোগই এখন তৃণমূলের তুরুপের তাস।

লক্ষ্য কি লোকসভা?
রাজ্য বিধানসভায় ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের পাখির চোখ এখন পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন। দলের দুর্দিনে কর্মীদের চাঙ্গা করতে এবং বুথস্তরে সংগঠনকে ফের প্রাসঙ্গিক করতে মদন মিত্রের মতো লড়াকু নেতার ওপরই শেষ ভরসা রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন এই দায়িত্বে মদন মিত্র কতটা কার্যকর হতে পারেন, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।