লোপামুদ্রার অন্ধভক্ত ছিলেন জয়! ২৫ বছরের দাম্পত্যের নেপথ্যে রয়েছে কোন অজানা গল্প?

বাংলা সঙ্গীত জগতের অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল জুটি লোপামুদ্রা মিত্র এবং জয় সরকার। আড়াই দশক আগে শুরু হওয়া তাঁদের দাম্পত্য জীবন আজও সুরের মূর্ছনায় বাঁধা। তবে এই সম্পর্কের শুরুর পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। ভক্ত থেকে জীবনসঙ্গী হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে অনেক মজার এবং অজানা কাহিনি।

ভক্ত থেকে জীবনসঙ্গী
শুরুর দিকে লোপামুদ্রার অন্ধভক্ত ছিলেন জয়। নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন একজন অনুগামী হিসেবেই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই শ্রদ্ধা ভালোবাসায় রূপ নেয়। জয় জানান, একবার উত্তরবঙ্গ থেকে শো করে ফেরার পথে ট্রেনে বসেই লোপামুদ্রা বিয়ের প্রস্তাব দেন। নিজেদের ডায়েরি খুলে ২২ জানুয়ারি তারিখটি ফাঁকা দেখে ঠিক করে ফেলেন বিয়ের দিন। কোনো আড়ম্বর ছাড়াই সেই তারিখে চার হাত এক হয় তাঁদের।

কাকার সংশয় ও ভুল মূল্যায়ন
লোপামুদ্রার কাকা জয়কে ভীষণ শ্রদ্ধা করতেন ঠিকই, কিন্তু বিয়েটা মেনে নিতে পারেননি। তাঁর ভয় ছিল, বিয়ের পর সংসার ও দায়িত্বের চাপে লোপামুদ্রার সঙ্গীতজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। লোপামুদ্রা জানান, “কাকা মনে করতেন সংসার করলে আমি আর গান করতে পারব না। এটা তাঁর জীবনের বড় এক ‘ভুল অ্যাসেসমেন্ট’ ছিল। কারণ আমার জীবনে গান সবসময়ই প্রথম স্থানে।”

বুটিক ‘প্রথা’ নিয়ে জয়ের আপত্তি
লোপামুদ্রা যখন তাঁর বুটিক ‘প্রথা’ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন, তখনও জয় প্রবল আপত্তি জানিয়েছিলেন। জয়ের ধারণা হয়েছিল, এই নতুন উদ্যোগের ফলে লোপামুদ্রার গানে মনোযোগ কমবে। সেই স্মৃতিচারণ করে লোপামুদ্রা বলেন, “জয় প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিল। সে ভেবেছিল গানবাজনা ছেড়ে আমি বুটিকে মন দিচ্ছি। কিন্তু ১১ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর জয় যখন দেখল আমি সমানভাবে গান চালিয়ে যাচ্ছি, তখনই ওর ভুল ভাঙে।”

ঝগড়া-ভালোবাসার সমীকরণ
আড়াই দশকের সম্পর্কে ঝগড়া তাঁদের নিত্যসঙ্গী। দাদাগিরির মঞ্চে এসে জয়কে ‘ননদ’ বলে কটাক্ষ করতেও পিছপা হননি লোপামুদ্রা। কিন্তু এই আপাতদৃষ্টিতে ‘ঝগড়া’র আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক গভীর ভালোবাসা। একে অপরের কাজ ও ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধাই তাঁদের সম্পর্ককে আজও অটুট রেখেছে।