মোদী-রুবিও বৈঠক! ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ওয়াশিংটন সফরের ডাক, বাণিজ্যেও মিলল নতুন সুর?

ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। বাণিজ্য শুল্ক, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি—মূলত এই তিন ইস্যু ঘিরে শনিবারের এই আলোচনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমন্ত্রিত মোদী
বৈঠকের অন্যতম বড় খবর হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হোয়াইট হাউস সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রুবিও। একই সঙ্গে আগামী সপ্তাহে ভারতে আয়োজিত হতে চলা ‘কোয়াড’ (ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের প্রস্তুতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

জ্বালানি কূটনীতিতে মার্কিন নজর
আলোচনার কেন্দ্রে ছিল জ্বালানি নিরাপত্তা। রুবিও স্পষ্ট করেছেন যে, ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার প্রধান সরবরাহকারী হতে চায় ওয়াশিংটন। বিশেষ করে ইরান ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষিতে ভারতের রুশ তেল ক্রয়ের ওপরও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রুবিও জানান, ভারত যাতে তার জ্বালানি আমদানির উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করে, তার ওপর জোর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ববাজারে ইরানের প্রভাব খর্ব করতে আমেরিকান তেল ও গ্যাসের বিকল্পকে ভারত আরও বেশি গুরুত্ব দেবে, এমনটাই প্রত্যাশা আমেরিকার।

বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগ
দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শুল্ক বিতর্ক। ট্রাম্প জমানায় আরোপিত ভারী শুল্ক আজও দুই দেশের পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তির পথে বড় কাঁটা হয়ে রয়েছে। যদিও বিভিন্ন অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে কিছু ছাড় পাওয়া গেছে, তবুও একটি স্থায়ী বাণিজ্য চুক্তির অনুপস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী কৌশলগত সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এর পাশাপাশি পাকিস্তান ও চীনের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে ভারত ও আমেরিকার দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা নিয়েও কথা হয়েছে। যদিও ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা শান্তিপূর্ণ কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমেই সব ধরণের বৈশ্বিক বিবাদ নিষ্পত্তিতে বিশ্বাসী।

বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য শুল্ক ও বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। এই সফরের মাধ্যমে উভয় দেশই তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করতে চাইছে। প্রধানমন্ত্রীর হোয়াইট হাউস সফর নিশ্চিত হওয়ার পর, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিল সমীকরণগুলো আগামীতে কতটা সরল হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।