এআই-এর ধাক্কায় বিপন্ন ব্যাক-অফিস ও ডেটার চাকরি! সতর্ক করল নতুন রিপোর্ট

ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং অটোমেশনের দাপট দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু এই নতুন প্রযুক্তিগত বিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো প্রস্তুতি কি আমাদের কর্মীবাহিনীর রয়েছে? সম্প্রতি প্রকাশিত ‘SHRM ইন্ডিয়া স্কিলস ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট ২০২৬’ এক উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরল। রিপোর্ট অনুযায়ী, উপযুক্ত দক্ষতার অভাবে আগামী তিন বছরে ভারতের লক্ষ লক্ষ কর্মীর চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে চলেছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কোন চাকরি?
রিপোর্টে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এআই ও অটোমেশনের কোপ সবচেয়ে বেশি পড়বে ব্যাক-অফিস ও ডেটা সংক্রান্ত পদগুলোতে। আগামী তিন বছরের মধ্যে:
২৮ শতাংশ ব্যাক-অফিস পদ প্রভাবিত হতে পারে।
২৪ শতাংশ ডেটা ও রিপোর্টিং সংক্রান্ত চাকরি এআই-এর কবলে পড়ার সম্ভাবনা।
২১ শতাংশ কাস্টমার সার্ভিস ক্ষেত্রে দ্রুত অটোমেশন আসতে চলেছে।
প্রশিক্ষণে কেন পিছিয়ে ভারত?
ভারতের সামনে ডিজিটাল ট্যালেন্ট ক্যাপিটাল হওয়ার সুযোগ থাকলেও, প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের নিরিখে ভারত বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে। রিপোর্টে উঠে আসা তথ্যগুলো চোখ কপালে তোলার মতো:
ভারতে মাত্র ২.৩ শতাংশ কর্মচারী প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ পান, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ায় এই হার ৯৬ শতাংশ, জার্মানিতে ৭৫ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ৬৮ শতাংশ।
সংস্থাগুলো প্রশিক্ষণের বাজেটের ৬০ শতাংশই খরচ করে ডিজিটাল কোর্স বা শ্রেণিকক্ষ প্রশিক্ষণে। অথচ ব্যবহারিক ও হাতে-কলমে শেখার পেছনে বিনিয়োগ করা হয় মাত্র ৩ শতাংশ।
মাত্র ৩৪ শতাংশ কোম্পানি তাদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির প্রকৃত ফলাফল বিশ্লেষণ করে।
নেতৃত্বের ব্যর্থতা নাকি বিনিয়োগের অভাব?
ভারতে এআই গ্রহণে প্রযুক্তিগত বাধা নয়, বরং নেতৃত্ব ও বিনিয়োগের অভাবই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৫৪ শতাংশ কোম্পানি স্বীকার করেছে যে, এআই-এর পেছনে বিনিয়োগ করার বিষয়টি তাদের কাছে এখনও খুব একটা গুরুত্ব পাচ্ছে না। পাশাপাশি, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (ROI) নিয়ে ধোঁয়াশা এবং ইএসজি (ESG) বা টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব কোম্পানিগুলোর জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
SHRM APAC এবং MENA-এর সিইও অচল খান্না মনে করেন, ভারত বর্তমানে কর্মী রূপান্তরের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “ভবিষ্যৎ সেইসব কোম্পানিরই, যারা কর্মীদের সময়মতো নতুন দক্ষতা শেখাতে সক্ষম হবে।”
এআই-এর হাত ধরে কর্মক্ষেত্রের এই দ্রুত বদলকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে না দেখে সুযোগ হিসেবে ব্যবহারের সময় এসেছে। নতুবা ভারতের তরুণ কর্মশক্তির এক বিরাট অংশ প্রযুক্তির দৌড়ে পিছিয়ে পড়তে পারে, এমনটাই সতর্কবার্তা দিচ্ছে এই রিপোর্ট।