গম্ভীরের প্রিয় ‘স্কাই’-এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত! নেতৃত্বের দৌড়ে নতুন চমক তিলক বর্মা?

বিশ্বজয়ের স্বাদ পেলেও ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বে বড়সড় রদবদলের হাওয়া বইছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পরও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের অবস্থান এখন আর নিরাপদ নয়। ব্যাট হাতে টানা ব্যর্থতা এবং আইপিএলে শোচনীয় ফর্মের কারণে বোর্ডের অন্দরে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কেন এই জল্পনা? আইপিএলে ১২ ইনিংসে মাত্র ২১০ রান এবং ১৮-র নিচে ব্যাটিং গড় সূর্যকুমারের ফর্ম নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলেছে। বিসিসিআই-এর এক শীর্ষ কর্তার কথায়, “একজন ব্যাটার যদি প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়ার যোগ্যতাই প্রমাণ করতে না পারেন, তবে তাঁর পক্ষে অধিনায়কত্ব বজায় রাখা অসম্ভব।” মূলত, ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিককে পাখির চোখ করে ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু করেছে বোর্ড। আর সেই পরিকল্পনায় ফর্মের চেয়ে ধারাবাহিকতা ও আগামীর সম্ভাবনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গম্ভীর ফ্যাক্টর: এই পুরো সমীকরণে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যকুমারের সঙ্গে গম্ভীরের সুসম্পর্ক এবং অতীতে তাঁর ওপর গম্ভীরের আস্থার বিষয়টি সবার জানা। কোচ যদি শেষ পর্যন্ত সূর্যকুমারের পাশে দাঁড়ান, তবে আপাতত এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া পিছিয়ে যেতে পারে।
দৌড়ে কারা? নেতৃত্বের দৌড়ে একাধিক নাম ভেসে আসছে। শ্রেয়স আইয়ার তাঁর আগ্রাসী নেতৃত্বের জন্য নির্বাচকদের পছন্দের তালিকায় থাকলেও কোচ গম্ভীরের সঙ্গে তাঁর রসায়ন নিয়ে ক্রিকেট মহলে গুঞ্জন রয়েছে। এদিকে, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিলক বর্মার ওপর বাজি ধরছে নির্বাচকমণ্ডলী। লঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য ত্রিদেশীয় সিরিজে ‘ইন্ডিয়া-এ’ দলের অধিনায়কত্ব তিলককে দেওয়াই তার বড় প্রমাণ। এছাড়া সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিষান এবং তরুণ বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে। অন্যদিকে, ফর্মের কারণে দল থেকে ছিটকে যাওয়া শুভমন গিলের প্রত্যাবর্তনও নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর।
এখন দেখার বিষয়, ব্যাট হাতে সূর্যকুমার নিজের পুরনো ছন্দ ফিরে পেয়ে নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারেন, নাকি গৌতম গম্ভীরের সিদ্ধান্তে ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন নেতৃত্বের যুগের সূচনা হয়।